ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

শেষের পাতা

২০৫০ সালের মধ্যে ৫৭০ কোটি লোক পানি সঙ্কটে পড়বে : জাতিসঙ্ঘ

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

২০ মার্চ ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:২৭


প্রিন্ট

বিশ্বের ৩৬০ কোটি অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক মানুষ বছরে অন্তত এক মাস পানি সঙ্কটে ভোগেন। আর এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫৭০ কোটি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের শিা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)। ২০১৮ সালের বিশ্ব পানি উন্নয়ন প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার হুমকির মুখে থাকা কোটি কোটি মানুষের পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সবুজনীতি’ গ্রহণ করতে হবে। পানির সরবরাহ ও মানোন্নয়নের জন্য সব দেশের সরকারকে আরো মনোযোগ দিতে হবে। সোমবার ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় বিশ্ব পানি সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বাংলা ট্রিবিউন।
ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অদ্রি আজুলাই ব্রাসিলিয়া সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপনায় বলেন, ‘আমরা যদি কিছুই না করি, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ পানির তীব্র অভাবের মধ্যে পড়বে।’ তিনি আরো বলেন, প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য এই প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। পানিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব নিরসনে আমাদের সবাইকে এক হয়ে দায়িত্বশীলতার সাথে এসব বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে পানির ব্যবহার ছয়টি কারণে গত শতাব্দীর চেয়ে বেড়েছে। আর এখনো প্রতি বছর এক শতাংশ হারে তা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অভিযোজনের ধরনে পরিবর্তনের কারণে পানির ব্যবহার বেশি বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে পানির চাহিদা অনেক বেশি বেড়েছে। একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক পানিচক্র তীব্রতর হচ্ছে। এর ফলে পানিসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতে পানি আরো বাড়ছে আর খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পানির আরো সঙ্কট দেখা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনের প্রধান সম্পাদক রিচার্ড কনর বলেন, তথাকথিত মানুষের তৈরি অবকাঠমো যেমন সংরণাগার, সেচ খাল ও পরিশোধন কেন্দ্র এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট নয়। আর পলি ভরাট, পরিবেশগত উদ্বেগ ও প্রতিবন্ধকতার কারণে নতুন করে সংরণাগার তৈরি করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বেশির ভাগ উন্নত দেশের স্বল্পব্যয়ের ও সহজলভ্য স্থানগুলো ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবুজ সমাধানে ইতোমধ্যে ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, নিউ ইয়র্কে ১৯৯০ সাল থেকে পানি সরবরাহের জন্য তিনটি বড় জলাধার সংরণ করা হয়ে থাকে। বন সংরণ কর্মসূচি ও কৃষকদের পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য আলাদা করে অর্থ প্রদান করা হয়। সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে শহরটি এখন অনেক অর্থ সাশ্রয় করতে পারছে। সেখানকার সমুদ্রের পানি পরিশোধন ও উপকূল রণাবেণ বাবদ শহর কর্তৃপ বছরে ৩০ কোটি ডলার সাশ্রয় করতে পারছে। একই ধরনের আরেকটি উদাহরণ হলো চীনের স্পনজি সিটির পানি উন্নয়ন প্রকল্প।
২০২০ সালের মধ্যে চীন দেশজুড়ে তিনটি পাইলট প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে বৃষ্টির পানির ৭০ শতাংশ পরিশোধনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ জন্য মাটি ব্যবস্থাপনা, ধারণমতা বাড়ানো ও সংরণ করা, পানি বিশুদ্ধকরণ ও আশপাশের জলাধারে তা সংরণ করার পরিকল্পনা করছে তারা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫