২৫ মার্চ শহীদ লে. আনোয়ারুল আজীমকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করছে সরকার

এ বছরের স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লে. আনোয়ারুল আজীম। আগামী ২৫ মার্চ তার স্বজনদের হাতে জাতীয় পর্যায়ের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা তুলে দিতে যাচ্ছে সরকার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লে. আনোয়ারুল আজীম নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলায় খট্টেশ্বর-রানীনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৩১ সালের ১০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৯ সালে দিনাজপুর জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫১ সালে দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৩ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজশাহী কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে গভীরভাবে জড়িত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় পাকহানাদারদের হাতে গ্র্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপন থাকেন।
রাজশাহী কলেজে ছাত্র থাকাকালীন তিনি কলেজে নওগাঁ সমিতি গঠন করেন এবং নওগাঁ সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল ছিলেন এবং এ সময় তিনি স্বহস্তে লিখে সমিতির ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন। দিনাজপুরে থাকাকালীন তিনি বালুবাড়ী পাড়ার যুবকদের নিয়ে ‘শক্তি পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ফজলুল হক হলের প্রকাশিত ম্যাগাজিনের সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন সুবক্তা, টেনিস খেলোয়াড়, গায়ক ও নাট্যকার ছিলেন।
ঢাকায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে থাকাকালীন ১৯৬৫ সালে আমেরিকার ফুলব্রাইট স্কলারশিপে তিনি আমেরিকায় মিসিগ্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল লেবার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে’ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
নাটোর জেলার গোপালপুরের প্রসিদ্ধ উত্তরবঙ্গ চিনিকলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসক) থাকাকালীন (স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন) ১৯৭১ সালের ৫ মে মিলের অভ্যন্তরে পুকুর ঘাটের সিঁড়িতে লে. আজীমসহ শতাধিক সহকর্মী, শ্রমিক, কর্মচারী ও অচেনা জনগণকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ি করিয়ে পাকসেনারা মেশিনগানের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যা করে। আজীমসহ এসব শহীদের লাশ পাওয়া যায়নি। সে পুকুর এখন জনগণের দেয়া ‘শহীদ সাগর’ নামে পরিচিত।
মাত্র ৩৯ বছর বয়সে শহীদ হওয়ার সময় তিনি তদানীন্তন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধ ক্ষেত্রের প্যাসরো বিভাগের ল্যাফটেন্যান্ট পদে বহাল ছিলেন। লে. আজীম গোপালপুরের মানুষের খুবই প্রিয়জন ছিলেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের শুরু থেকে মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে গেছেন মাতৃভূমি রক্ষায়।
১৯৭৩ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার এ বীর শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে গোপালপুর রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘আজীমনগর’ নামকরণ করেন। শহীদ লে. আজীম নওগাঁর প্রবীণ সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, সমাজসেবী ও অবসরপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মরহুম খান সাহেব মোহাম্মদ আফজাল ও মোসাম্মৎ মতিজান নেছার জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন। শহীদ হওয়ার সময় আজীমপতœী সামসুন নাহার, এক মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। বিজ্ঞপ্তি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.