ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

রাজনীতি

আজ কফিনে শেষ পেরেক মারা হলো : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মার্চ ২০১৮,সোমবার, ১৪:২০


প্রিন্ট
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সর্বোচ্চ আদালতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতাদেশকে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষোভের সঙ্গে বলছি- এই আদেশে সরকারের যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছাই প্রতিফলিত হয়েছে।

মানুষের আশা-আকাংখার স্থল যেই সর্বোচ্চ আদালত, সেই সর্বোচ্চ আদালত থেকে আমরা ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হয়েছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বঞ্চিত হয়েছেন।

আজ সোমবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের পক্ষে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আদেশ প্রদানের আড়াই ঘন্টা পর সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রীকে এভাবে বন্দি করে রাখার একটাই উদ্দেশ্য গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে কবর দিয়ে দেয়া। সমাজে একটা কথা আছে যে, কফিনের শেষ পেরেকটি মেরে দেয়া। আজ কফিনে শেষ পেরেকটি মারা হলো।

আমি মনে করি দেশনেত্রীকে জামিন না দিয়ে। আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগের ওপর ভর করে, তাদেরকে ব্যবহার করে এভাবে মানুষের অধিকারগুলোকে হরণ করে নিচ্ছে। আমরা এই অন্যায়- অত্যাচার, এই বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার তীব্র প্রতিবাদ করছি, নিন্দা জানাচ্ছি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক দল, সামাজিক সংগঠন, গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। খুব কৌশলে যাচ্ছে কিন্তু। কৌশলটা হচ্ছে জামিন স্থগিত করে দিয়েছে, জামিন নাকচ করেনি।

এরপর লিভ টু হিয়ারিং হবে লিভ টু আপীলের। অর্থাৎ এভাবে ক্রমান্বয়ে যেতে থাকবে এবং তাকে (খালেদা জিয়া) আটকিয়ে রাখা হবে। এটা জামিন দিয়েও করতে পারতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাগুলো আদালতে তিনি পাচ্ছেন না।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আমরা আজকে বিক্ষুব্ধ হয়ে আপনাদের সামনে এসেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলার যে রায় হয়েছিলো, সেই রায়ের পরে।

আপনারা জানেন ৫ বছর সাধারণত আপিল করলেই জামিন হয়ে যায়। সেই মামলা জামিন পাওয়াটা এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা তার আইনগত অধিকার।

এখন পর্যন্ত এই ধরণের ঘটনা ঘটেনি যে, ৫ বছর জামিন পায়নি। আমরা দুর্ভাগ্যক্রমে প্রথম থেকে লক্ষ্য করেছি যে, দেশনেত্রীর জামিন ও তাকে কারাগার থেকে বের করে আনবার যে আইনি প্রক্রিয়া, সেই আইনি প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সচেতনভাবে বাঁধা দিচ্ছে। সরকার সেই বাঁধা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এই গণতন্ত্র বিরোধী সরকার, এই অনৈতিকভাবে নিজেদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করা সরকার দেশ থেকে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকারকে পুরোপুরি হরণ করে ফেলেছে।

আপনারা যারা গত রোববার আদালতে গেছেন তারা দেখেছেন যে কিভাবে আদালতের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পুরোপুরি ঘিরে রেখেছে। আগে জানতার বাইরে, এখন দেখছি ভেতরের মধ্যেও পুরোপুরি। এমনকি প্রধান বিচারপতির এজলাসের বাইরে পর্যন্ত ।

কিছু কিছু লোককে ভেতরে ঢুকতে দেখেছি আর্মসসহ বেল্টসহ। এটা আমরা দেখেছি। আমার মনে হয় পৃথিবীর কোনো দেশে এরকম নজির রয়েছে। এই অবস্থায় এই দেশ চলে গেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে দীর্ঘদিন রেখে দেয়ার অর্থই হচ্ছে যে, সরকারের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ গণতন্ত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে বন্দি রেখে তাদের যে নীল নকশা, সেই নীল নকশা অনুযায়ী তাদের মতো করে একতরফা নির্বাচন দেখিয়ে আবার ক্ষমতায় চলে আসা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা শুনেছেনও। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে, এটা এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এটা ডিসাইডেড, ডান। এই একটা অবস্থার মধ্যে আজকে আমরা আছি। এই কথাগুলো বার বার বলতে হয়, বলতে হবে।

এছাড়া অন্য কিছু করতে আমরা শিখিনি। গণতান্ত্রিক দলের তো এভাবেই কাজ করবে। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। আমরা জনগনের কথা গুলো সামনে তুলে আনতে চাই।

তিনি বলেন, সারাদেশে আমাদের নেতা-কর্মীদের এই অবস্থা। খুলনায় দলের ধর্ম বিষয়ক সহ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুকে তিনদিন আগ তুলে নেবার পর এখনো তার খোঁজ নেই।

কিছুদিন আগে তেজগাঁও ছাত্র দলের নেতা জাকির হোসেন মিলন যে মারা গেলো তার পরিবারের ইন্টারভিউ করার জন্য গতকাল কোনো একটি বিদেশী সংবাদ মাধ্যম একটা জায়গা নিয়েছিলো। সেকেন্ডের মধ্যে সেখানে পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকতে পারেনি।

দেশের নিম্ন আদালতগুলো জামিন দিচ্ছে না অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেখেন আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কতদিন আগে গ্রেফতার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার জামিনের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। কারণ নিম্ন আদালতকে বলে দিয়েছে শুনানি পরে হবে।

যে কারণে এসকে সিনহা (সাবেক প্রধান বিচারপতি) সাহেবকে চলে যেতে হলো যে, নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকে, এটা যেন সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সেজন্য বিধি বিধান পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। সেটা সরকার করতে দেয়নি। এরফলে কী হয়েছে? এখন আইন মন্ত্রণালয়ে নির্দেশে নিম্ন আদালত চলছে। তারা বলে দিচ্ছে একমাস/দুই মাস পরে শুনানি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, জেড মর্তুজা চৌধুরী তুলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫