ওয়াসার পানি জারে ভরলেই হয়ে যায় ফিল্টার

পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা, ৯ জনের কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিশোধন না করে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ওয়াসার পানি ভরা হচ্ছে প্লাস্টিকের জারে। জারের মুখ কর্ক-বন্দী করে নাম দেয়া হচ্ছে ‘ফিল্টার পানি’। বিশুদ্ধ দাবি করে সেই পানি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও অফিস-আদালতে। তথাকথিত বিশুদ্ধ পানিভর্তি জারটির গায়ে নেই কোনো লেবেল, এমনকি নেই উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখও। অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে এসব পানি জারভর্তি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 
রাজধানীর পল্টন ও তোপখানা রোডে দূষিত পানি বিক্রি ও বাজারজাত করার অভিযোগে দিঘি ড্রিংকিং ওয়াটার, উইনার, লিমুকা, অ্যাকুয়া ব্লু ও মাসাফি পানির কারখানায় অভিযান চালিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া লিমুকা ও মাসাফি ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানাকে সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। 
র‌্যাব ৩-এর সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এ সময় বিএসটিআইর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান কালে ২০ লিটারের ৪ হাজার ২০০টি পানির জার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। 
র‌্যাব জানায়, খোলা কলের দূষিত পানি ভরে বিক্রি ও বাজারজাত করছে একশ্রেণীর অসৎ মানুষ, যা মানুষের জীবনঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এই পানি পান করে অনেকেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য, নর্দমা ও ড্রেনের ময়লাসহ বিভিন্ন ধরনের তিকারক পদার্থ মিশে সেই পানি বিষাক্ত হয়ে আছে। এটাকে পরিশোধন করতে অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলেও রোগব্যাধি বাড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অবৈধভাবে এসব পানি বোতলজাত করে কিছু অসাধুু ব্যবসায়ী বাজারজাত করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছেন। এদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তারই ধারাবাহিকতায় মিরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। 
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, পানির কারখানায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায় ওয়াসার লাইন থেকে ফিল্টারিং ছাড়াই নোংরা পরিবেশে পানি বোতলজাত করছে। এ ছাড়া কারখানাগুলোয় কোনো বায়ো-কেমিস্ট বা মাননিয়ন্ত্রক কোনো কিছুই দেখা যায়নি। অবৈধ উপায়ে পানি বোতলজাত করে বাজারে বিপণন করার অপরাধে দিঘি ড্রিংকিং ওয়াটারের দুইজনকে ১ লাখ টাকা ও উইনার ড্রিংকিং ওয়াটার কারখানাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লিমুকা পানির কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। ওই কারখানার শেখ সেলিম, সৈয়দ তুহিন আহমেদ, নাজমুল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও রেজাউল প্রত্যেককে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের অ্যাকুয়া ব্লু পানির কারখানাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই রোডের মাসাফি কারখানার চারজনকে ১ মাস করে কারাদণ্ড ও কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ ইব্রাহিম মোল্লা, শামীম, মাহবুব ও তসরুল ইসলাম।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.