ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

নগর মহানগর

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী

১ টাকা কর দিলেই মিলবে ট্যাক্স কার্ড

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৯ মার্চ ২০১৮,সোমবার, ০১:০৯


প্রিন্ট
দেশের মানুষকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর দেয়াকে উৎসাহিত করতে প্রত্যেক নাগরিককে ট্যাক্স কার্ড দেয়া হবে। কেউ যদি এক টাকাও ট্যাক্স দেন, তাকেও ট্যাক্স কার্ড দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আর সংসদ সদস্যরা আগামী বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের সুপারিশÑ করব্যবস্থার সংস্কার করে ব্যক্তিগত আয়ের করসীমা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা, ব্যক্তিগত আয়ের সর্বোচ্চ শ্রেণীর জন্য করের পরিমাণ কমানো, সব নাগরিকের জন্য ট্যাক্স কার্ডের প্রচলন করা, ভ্যাট ও করের আওতা বাড়ানো দরকার।
শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কে গতকাল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ ঘোষণা দেন। সংসদীয় বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যানদের সাথে এই বাজেট আলোচনায় সংসদ সদস্যরাও বিভিন্ন সুপারিশ করেন। আলোচনায় শিা খাতের দুরবস্থা, শিার গুণগত মান, শিাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি, চিকিৎসক সঙ্কট ইত্যাদি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কর জাল গত ৯ বছরে বাড়লেও মাথাপিছু আয়ের তুলনায় কর আদায় কম। কর আদায় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবার জন্য বিনামূল্যে ট্যাক্স ফাইল করার ব্যবস্থা করা উচিত। ব্যক্তিগত ট্যাক্স ওপরের দিকে অনেক বেশি। ফলে অনেকেই ট্যাক্স ফাঁকি দেন। এটা কিছুটা কমানো হলে অনেকেই ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত হবেন। আবার অনেক ব্যবসায়ীও জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেন না। ভ্যাট আদায় বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম কর হার কমানোর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এটা কমানো হলে কর জালের আওতা বাড়বে এবং সবাই ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত হবে। আগামী অর্থবছর ব্যক্তি করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরির ট্যাক্স ছাড় দেয়া প্রয়োজন। যাতে অন্যরা পরিবেশ উপযোগী গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে পারেন।
মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মীর শওকত আলী বাদশা উপকূলীয় মাছচাষ উন্নয়নে আরো বেশি বরাদ্দের দাবি ও বাণিজ্যিকভাবে হরিণ চাষের অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে হরিণ চাষ করলে গোশতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সুন্দরবনে চোরাই হরিণ শিকারও কমে আসবে।
সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি বলেন, কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা গ্রামে থাকেন না। উচ্চশিার অজুহাত ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পরিচয়ে চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে থাকেন না। ঢাকায় চলে আসেন। এটা চরম বাস্তবতা। তিনি বলেন, দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা হাসপাতালগুলোর মধ্যে আমার উপজেলা কাপাসিয়ার অবস্থান আট নম্বরে। এত ভালো অবস্থানের পরেও আমার উপজেলায় চিকিৎসক ধরে রাখতে পারি না। চিকিৎসক সঙ্কট দূর করার জন্য সরকারকে গভীরভাবে বিষয়টি দেখতে হবে।
আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আ ফ ম রুহুল হক, মকবুল আহমেদ, মেজর জেনারেল সুবিদ আলী ভূঁইয়া, জাহিদ আহসান রাসেল ও রেবেকা মোমেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫