ঢাকা, শুক্রবার,২৭ এপ্রিল ২০১৮

নগর মহানগর

করণীয় নির্ধারণে আজ নাগরিক সভা

মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

খালিদ সাইফুল্লাহ

১৯ মার্চ ২০১৮,সোমবার, ০১:০৯ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০১৮,সোমবার, ০১:২১


প্রিন্ট
রাজধানীতে এ বছর মশার উপদ্রব অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। মশার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে নগরবাসী। দিনে রাতে কখনোই মশার অত্যাচার থেকে নিস্তার নেই। মশারি, কয়েল, স্প্র্রে, ইলেকট্রিক ব্যাট কোনো কিছুতেই মশাকে রোখা যাচ্ছে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) চালিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। 
কিন্তু মানুষ মশার অত্যাচার সহ্য করে নিলেও মশাবাহিত রোগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবসন্তে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। মশার মাধ্যমে এই রোগ ব্যাপক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়াও ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, চিকুনগুনিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ সিটি করপোরেশনও। এ কারণে রোগ প্রতিরোধে বিশিষ্ট নগরবাসীর মতামত নিতে একই দিনে নাগরিক সভা ডেকেছে দুই সিটি করপোরেশন। 
এ দিকে মশা পরিস্থিতির কোনো উন্নতিই দেখা যাচ্ছে না রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। এক তলা থেকে দশ তলা কোথায় শান্তি নেই। উত্তরা একটি অভিজাত এলাকা হওয়ার পরও সেখানে মশার অত্যাচার এ বছর সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার উপায় থাকে না। এমনকি মশার উপদ্রবের কারণে উত্তরার বিমানবন্দরে একটি বিমান প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়তে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ সিটিতেও বেশির ভাগ এলাকায়ই একই অবস্থা। এ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই সিটি করপোরেশন গত ফেব্রুয়ারিতে এক মাস ধরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশন হট লাইন চালু করে এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়ে নির্দিষ্ট সেসব এলাকায় ওষুধও ছিটিয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই মশার উপদ্রব কমাতে পারেনি তারা। বরং এখনো মশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সমানতালে। উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন জানিয়েছেন, নগরীর ড্রেনগুলো অপরিষ্কার থাকার কারণেই বেশি মশার উৎপাদন হচ্ছে। এসব ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এসব ড্রেনের মালিক সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসাও। এ ছাড়া খালও পরিষ্কার করা হয় না সময়মতো। অনেক খাল, জলাশয়, বিমানবন্দর এলাকা ও সেনানিবাসের মশা নিয়ন্ত্রণেও সিটি করপোরেশনের কোনো এখতিয়ার নেই। ফলে এসব এলাকার মশা সিটি করপোরেশন এলাকায় চলে আসছে। তার পরও সম্প্রতি উত্তর সিটি করপোরেশন বিমানবন্দরের মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটিয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পাশাপাশি স্বচ্ছ ঢাকা কর্মসূচির আলোকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু তার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। নগরবাসী শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। মশার কারণে গত বছর চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এবারো সে রকম রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে আজ (সোমবার) উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। এ সভায় সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়েই এ মতবিনিময় সভায় আলোচনা করা হবে বলে ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একইভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও আজ সকালে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে এ সভায় আলোচনা করা হবে বলে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫