মুসলিমমুক্ত রাখাইন গড়ার তৎপরতা

এএফপির উদ্বেগজনক প্রতিবেদন

যদি বলা হয়, মিয়ানমার কোনো রাখঢাক না করেই রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জাতিসম্প্রদায় নিধন করে মুসলিমমুক্ত রাখাইন গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে, এরই প্রতিফলন পাওয়া যায় এএফপির প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের গ্রাম কোয় তান কাউক। একসময় এখানে বাস করত রোহিঙ্গা মুসলমানেরা। এখন গ্রামের প্রবেশপথে বাঁশের খুঁটিগুলোয় শোভা পাচ্ছে বৌদ্ধদের পতাকা। এখানে বসতি গড়তে আসতে শুরু করেছে জাতিগত রাখাইনেরা। রাখাইন রাজ্যের যেসব স্থান থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিতাড়িত করা হয়েছে, সেখানেই বসত গড়ছে নতুন আসা রাখাইনেরা। রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করা গ্রামের পর গ্রাম মিশিয়ে দেয়া হয়েছে মাটির সাথে। রোহিঙ্গাদের গ্রামে আসতে থাকা বৌদ্ধ রাখাইনদের সংখ্যা এখনো কম। তবে এদের আশা, এখন থেকে এরা এসব গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসত করবে।
একসময়ের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা বিন্যাস পাল্টে দেয়ার যে ‘রাখাইনিকায়ন’ পরিকল্পনা রয়েছে, তারই অংশ হতে পেরে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে এসব দখলবাজ বৌদ্ধ রাখাইনেরা। এই পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে দাতাদের অর্থের জোগান। এটিই হচ্ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করে রাখা এবং তাদের জাতিগতভাবে নিধন বা মিয়ানমার থেকে বিতাড়নের সবচেয়ে বিয়োগান্ত দিক। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা না পেলে মিয়ানমার কখনোই এভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা পরিচালনা ও দেশ থেকে বিতাড়নের উদ্যোগ নিতে সাহস পেত না। আমরা দেখেছি, চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো দেশ সাম্প্রতিক বিতাড়নে কার্যত প্রকাশ্যেই মিয়ানমারের পক্ষই নিয়েছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, আন্তর্জাতিক মহল যদি মানবিক তাগিদ থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারসহ অন্যান্য অধিকার আদায়ের পক্ষে অবস্থান না নেয়, তবে মিয়ানমার রোহিঙ্গামুক্ত রাখাইন গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ থেকে কখনোই ফিরবে না। আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক মহলের উচিত বিশ্বশান্তির স্বার্থে মিয়ানমারের এই অশুভ তৎপরতা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া।
মিয়ানমার যে মুসলিমমুক্ত রাখাইন গড়তে চায়, সে বিষয়টি এখন আর অস্পষ্ট কোনো বিষয় নয়। অবশেষে মিয়ানমারের রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের সচিব টিন সং সোয়ে জানিয়েছেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার মুসলমান মংডু ছেড়ে পালিয়ে গেছে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করল। এখন আন্তর্জাতিক মহলের উচিত এদের নিরাপদে দেশে ফেরানো ও তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করা। একই সাথে গত আগস্টের পর সেখানে রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। না হলে এ ধরনের আরো উদাহরণ সৃষ্টি হবে বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.