ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

পাঠক গ্যালারি

বেদনাকে বলেছি, কেঁদো না

জোবায়ের রাজু

১৭ মার্চ ২০১৮,শনিবার, ১৬:২৭


প্রিন্ট
বেদনাকে বলেছি, কেঁদো না

বেদনাকে বলেছি, কেঁদো না

গত সোমবার দুপুরে খাবার পর্ব শেষ করে বালিশে মাথা গুঁজে ফেসবুক ওপেন করতেই চোখে ভাসতে লাগল নেপালে বাংলাদেশী বিমান দুর্ঘটনার একাধিক পোস্ট। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এই লোমহর্ষক ঘটনা পোস্ট করে শোকের নগরী করে তুলেছেন ফেসবুকের হোমপেজ। ততক্ষণে টিভি চ্যানেলগুলোতেও ব্রেকিং নিউজ শুরু হয়ে গেছে। 

ঘটনার তাৎপর্য গাঢ় হতে হতে যখন সন্ধ্যা, দেখলাম পুরো ফেসবুকজুড়ে গভীর শোকের নীল সমবেদনা। সমবেদনায় যেনো কাঁদছে পুরো বাংলাদেশ। নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে আমার দেশের কতগুলো স্বপ্নময় চোখ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। একটুখানি অবকাশ যাপনের আশা নিয়ে যারা নেপালে বেড়াতে গিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত নেপালে নয়, গিয়েছেন অন্য কোথাও। অন্য কোনো ভুবনে, আসমানের ওপারে..., মেঘের ওপারে। মেঘের ওপর যে বাড়ি, সে বাড়ির ঠিকানায় চলে গেছেন চিরদিনের জন্য।

মৃত্যু, শোক, প্রাণনাশ- এসব শব্দ খুবই নির্মম। শব্দগুলো আমার ভেতরটাকে এক কঠিন হাতুড়ি দিয়ে পেটাতে থাকে। আমি ভেঙে পড়ি। অধিক শোকে পাথর হতে হতে পরশপাথর হই। রাত বৃদ্ধির সাথে সাথে ফেসবুকে আসতে থাকে নিহতদের ছবি। কতগুলো তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে গেল আকস্মিক দুর্ঘটনায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক নবদম্পতির মৃত্যু আমাকে স্তব্দ করে দিলো। নিহত সেই জেসি ফারিয়াকে স্মরণ করে তার এক বন্ধু ফারিয়ার সদ্য বিয়ের ছবি আপলোড করে ফেসবুকে লিখেছেনÑ ‘দোস্ত, মাত্র কয়টা দিন আগে মিনহাজ ভাইয়ের সাথে নতুন জীবন শুরু করলি। এক সপ্তাহও হয়নি। ফান করে বলেছিলাম, ভাইয়ের সাথে নতুন জীবন শুরু করে আমাদের কাছ থেকে দূরে চলে যাবি। এত দূরে চলে যাবি কখনো ভাবিনি।’ পোস্টের এই কথাগুলো আমাকে বেদনায় কাঁদিয়ে দিলো। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেনেছি, সেই মেয়েটির বিয়ের মেহেদির রঙ তখনো মোছেনি।

মধ্যরাতে জানলাম এই দুর্ঘটনার শিকার রফিক জামান, সানজিদা হকসহ তাদের ছেলে অনিরুদ্ধ আমারই পাশের মহল্লা কেশারখিলের বাসিন্দা। এক অবরুদ্ধ ব্যথায় বুক টনটন করে উঠল মধ্যরাতের নিশুতি বেলায়। কেনো এই অনাকাক্সিক্ষত শোক বেদনায় কাঁদাতে এলো এভাবে! জীবনের হিসাব-নিকাশ এত অদ্ভুত কেন! পরদিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার পর জানলাম, সেই বিমানের পাইলট আবিদ সুলতানও মারা গেছেন। নতুন করে আরো এক বেদনা বুকে ভর করল। আবিদ সুলতান মারা যাওয়ার সাথে সাথে মনে পড়ল আমার ছোটভাই রকিকে, যে দূরের লন্ডন শহরে পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আল্লাহ, আমার ভাইয়ের জীবনে যেনো এমন বেদনার ইতিহাস রচনা না হয়!
গত কয়েকদিন ধরে ইউটিউব খুললেই নেপাল ট্র্যাজেডি ভেসে আসে। অগ্নিকাণ্ড আর কালো ধোঁয়ার ভয়াবহ ভিডিও মনটাকেও যেন পুঁড়িয়ে দেয়। ছোটবেলায় আকাশে বিমান উড়ে গেলে আমার কিশোর দুটো চোখ উৎসুক হয়ে সেই চলে যাওয়া দূরের ছোট্ট বিমান দর্শনে মগ্ন হয়ে থাকত। সেই বিমান ভ্রমণে ছোট্ট হৃদয় তখন মরিয়া হয়ে উঠত। আমার মতো হয়তো এখনো অনেকে এই বিমানভ্রমণের গোপন লোভ মনে ধারণ করেন। কেউ কেউ হয়তো পাইলট হওয়ার স্বপ্নও আঁকেন। কিন্তু কেউ জানে না কখন কবে কোথায় কোন বিমান বিধ্বস্ত হবে।
নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিজনদের এই শোক সইবার ধৈর্য দিন আল্লাহ। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করি।

আমিশাপাড়া, রাজু ফার্মেসি, নোয়াখালী

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫