ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

সম্পাদকীয়

অর্থনীতিতে ভাটার টান

ঠেকানোর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়

১৭ মার্চ ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সহযোগী একটি দৈনিকের গতকালের শীর্ষ সংবাদের শিরোনাম ছিলÑ ‘নির্বাচনী বছরে ভাটার টান অর্থনীতিতে’। এই প্রতিবেদনের সারকথা হচ্ছে, চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কারণ, অর্থনীতির গতি শ্লথ হচ্ছে, ব্যাংকে আছে অর্থসঙ্কট, আবার নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
উল্লিখিত প্রতিবেদন মতে, দেশের অর্থনীতির গতি কমেছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন না। আবার অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণও পাচ্ছেন না। ঋণ দেয়ার মতো টাকাই নেই ব্যাংকে। তবে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ভালো। প্রবাসী আয়ও বাড়ছে, কিন্তু আমদানি ব্যয়ের বেশি চাপ থাকায় ডলারের বাজারও টালমাটাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়Ñ সব মিলিয়ে স্বস্তিতে নেই কেউই। চাপে আছে সাধারণ মানুষও। সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি যত কমই দেখা যাক না কেন, সাধারণ মানুষের কাছে বড় বিষয় হচ্ছে চাল, আলু, পেঁয়াজ, তরিতরকারিসহ নিত্যপণ্যের চড়া দাম। টিসিবির দেয়া পরিসংখ্যান মতে, এক বছরে সরু চালের দাম বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪৫ এবং মোটা চালের দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ সময়ে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১১৪ শতাংশ। যাতায়াতভাড়া ও সন্তানদের লেখাপড়া করানোর বাড়তি খরচের চাপ তো আছেই। শহরের মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা বাসাভাড়া। এসব খরচ করার পর মধ্যম ও নি¤œ আয়ের মানুষের হাতে টাকা থাকছে না।
আমরা বাস্তবে দেখছি, সরকার এসব সমস্যাকে বিন্দুমাত্র আমলে নিচ্ছে না; বরং দিনরাত উপায় খুঁজছে কী করে জনগণের পকেট থেকে আরো বেশি করে টাকা সরকারের কোষাগারে নেয়া যায়। এর একটি উদাহরণ হচ্ছে, খবর আসছে শিগগিরই সরকার গ্যাসের দাম বাড়াতে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ যে আরো বাড়বে, সে দিকে সরকারের খেয়াল নেই।
ছোট-বড় ব্যবসায়ীর অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও দেশের অন্যতম রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরের মতে, অর্থনীতিতে এই ভাটার কারণ তিনটিÑ বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ না থাকা, সুদের হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ও বন্দরে পণ্য খালাসে বেশি সময় লাগা। তার মতে, অর্থনীতিতে এখন অস্থিরতা চলছে। বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। সংশয় আছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। শুধু যে বড় শিল্পপতিরা অসুবিধায় আছেন তা নয়, মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীদের অবস্থাও একই।
বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় থাকলে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অব্যাহতভাবে সে পরিস্থিতিই বিরাজ করছে। নির্বাচন প্রশ্নে যে অনিশ্চয়তা চলছে, তা সমাধানে সরকারপক্ষের কোনো ইতিবাচক সাড়া নেই, যার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে দৃশ্যমান। সরকার বাস্তবতা অনুধাবন করে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইতিবাচক সাড়া নিয়ে এগিয়ে আসবেÑ এমনটিই সবার প্রত্যাশা।

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫