রক্ত এবং জীবন এক ও অভিন্ন : ঢাবি উপাচার্য

বিশেষ সংবাদদাতা

পৃথিবীতে রক্তের চেয়ে দামি কিছু নেই। রক্ত এবং জীবন এক ও অভিন্ন। রক্তদানের চেতনা সার্বজনীন। এ চেতনা অসাম্প্রদায়িক। রক্তের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। তাই রক্তদাতাদের এ মূল্যবোধকে আরো সম্প্রসারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত মনোরোগ ও ¯œায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জহির উদ্দিন আহমাদ। অনুষ্ঠানে নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন মুস্তারী চৌধুরী রিমকী ও নিয়মিত রক্তগ্রহীতাদের মধ্য থেকে অনুভূতি জানান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সুমাইয়া আক্তার সিমি। অনুষ্ঠানে কমপক্ষে ১০ ও ২৫ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেনÑএমন ২৩২ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে আইডি কার্ড, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
রক্তদাতাদের সম্মাননা বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, রক্তদাতাদের প্রতি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এ সম্মাননা, এ স্বীকৃতি আসলে শুধু রক্তদাতাদেরই অনুপ্রেরণা দিচ্ছে না, এর মাধ্যমে অন্যরাও এমন ভালো কাজে উৎসাহিত হবে। এভাবেই দেশের রক্তের ঘাটতি একদিন পূরণ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অধ্যাপক ডা. জহির উদ্দিন আহমাদ রক্তদাতাদের এ মহতী কাজের প্রশংসা করেন।
মাদাম নাহার আল বোখারী বলেন, রক্তদাতারা তাদের জীবনের মূল্যবান জিনিস ‘রক্ত’ দান করে যাচ্ছেন। শারীরিক ও বয়সজনিত কারণে অনেকে রক্ত দিতে পারেন না। রক্তদাতাদের তাই শুকরিয়া করা উচিত যে, তারা এমন একটি মহৎ কাজ করতে পারছেন। আর সমগ্র মানবজাতির পক্ষেও রক্তদাতাদের এ দানের ঋণ শোধ হবে না। রক্তদাতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। এর মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায়। ৫০-৫৫ শতাংশ আসে রোগীর আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে। বাকি ২০-২৫ শতাংশ আসে পেশাদার রক্ত বিক্রেতার কাছ থেকে। রক্তের এ চাহিদার পুরোটাই স্বেচ্ছায় পূরণ হোকÑ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, কোয়ান্টাম ১৯৯৬ সাল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ২০০০ সালে ল্যাব প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ৯,৪৯,৩৪৫ ইউনিট রক্ত সরবরাহ করে কোয়ান্টাম।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.