ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

আমেরিকা

নগ্ন ছবি তোলায় ৩ পর্যটককে বহিষ্কার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৫ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১০:৩৪ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১১:০৬


প্রিন্ট
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পেরুর মাচু পিচু থেকে তিন ইউরোপীয় পর্যটককে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেখানে নগ্ন হয়ে ছবি তোলায় তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। দেশটির এটি একটি দর্শনীয় স্থান। বুধবার পুলিশ একথা জানায়। খবর এএফপি’র।

কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার এ স্থান থেকে যে তিন পর্যটককে বহিষ্কার করা হয় তাদের একজন জার্মান, একজন সুইজারল্যান্ড এবং অপরজন নেদারল্যান্ডের নাগরিক।

পুলিশ কর্মকর্তা মার্টিন ফ্লোরেস বলেন, ‘ওই তিন পর্যটক প্যান্ট খুলে তাদের নিতম্বের ছবি তুলে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে এমনটা করা নিষিদ্ধ। ফলে তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা হলেও আটক করা হয়নি।’

উল্লেখ্য, মাচু পিচুতে নগ্ন হওয়াকে পেরু কর্তৃপক্ষ অসম্মানজনক মনে করে।

রহস্যময় নগরী ‘মাচু পিচু’
পেরুর রহস্যময় ধ্বংসাবশেষ মাচু পিচু। পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় গন্তব্যস্থল হিসেবে এটিকে ধরা হয়। সমুদ্রতল থেকে প্রায় ৭০০০ ফুট উপরে আন্দেস পর্বতশ্রেণীর মধ্যে একটি ছোট পাহাড়ের চূড়া উপর এই শহর অবস্থিত। এ অঞ্চলেই উপকথার প্রথম সাপা ইনকা মাংকো কাপাক ১২০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে কোস্কো রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

পরবর্তীতে মাংকো কাপাকের উত্তরসূরীদের অধীনে আন্দেস পর্বতমালার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের মধ্যে নিয়ে এসে এ রাজ্যটি বিস্তার লাভ করে। ১৪৪২ সালের মধ্যেই রাজা পাচকুতিকের অধীনে ইনকারা তাদের সাম্রাজ্য দূরদূরান্তে বিস্তৃত করে, পাচকুতিক নামের অর্থই হচ্ছে, ‘পৃথিবী কাঁপানো মানুষ’। তিনিই ইনকা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, যা কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের আগে দুই আমেরিকা মহাদেশের সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য ছিল। ইনকা সাম্রাজ্য প্রে-কলাম্বিয়ান আমেরিকাতে বৃহত্তম সাম্রাজ্য ছিল। এই সাম্রাজ্যের প্রাশাসনিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক কেন্দ্র ছিল কোস্কো শহর। পেরুর পাহাড়ি এলাকায় ১৩০০ শতকের দিকে ইনকা সভ্যতার সূচনা হয়।

শহরটিতে ১৪০টি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে কিছু মন্দির, পবিত্র স্থান, উদ্যান এবং আবাসিক ভবনসমূহ (আবাসিক ভবনগুলো খড়ের ছাউনি দেয়া ছিল)। মাচু পিচুতে রয়েছে ১০০টিরও বেশি সিঁড়ি যার মধ্যে কিছু কিছু একটি মাত্র গ্রানাইট পাথরের খণ্ড খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে। এখানে আরও রয়েছে প্রচুর সংখ্যক ঝরনা, যেগুলো পাথর কেটে তৈরি করা ছোট ছোট খালের মাধ্যমে পরস্পর সংযুক্ত এবং এসব মূলত সেচকাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, এই সেচ ব্যবস্থা ব্যবহার করে একটি পবিত্র ঝরনা থেকে পানি প্রতিটি বাড়িতে সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এটি ১৪৫০ সালের দিকে নির্মিত হয়, কিন্তু এর এক শ’ বছর পর ইনকা সভ্যতা যখন স্পেন দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। কয়েক শ’ বছর অজ্ঞাত থাকার পর ১৯১১ সালে হাইরাম বিঙাম (Hiram Bingham) নামে এক মার্কিন ঐতিহাসিক এটিকে আবার সমগ্র বিশ্বের নজরে নিয়ে আসেন। তারপর থেকে মাচু পিচু পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণী দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে।

এটিকে ১৯৮১ সালে পেরুর সংরক্ষিত ঐতিহাসিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ইউনেস্কো ১৯৮৩ সালে এটিকে তাদের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এটি বর্তমান বিশ্বের সাতটি নতুন বিস্ময়েরও একটি।

পেরুর পর্যটন রাজস্বের শতকরা ৯০ ভাগ আসে কুসকো অঞ্চল থেকে৷ প্রবল বৃষ্টি এবং ভূমিধস মাচু পিচুর রেল যোগাযোগ ধ্বংস করে দিয়েছিল। ফলে মাচু পিচু দু’মাস বন্ধ থাকায় পেরু প্রায় ৬০ হাজার পর্যটক হারিয়েছে৷ কুসকো অঞ্চলের প্রায় ১৭৫,০০০ মানুষ জীবন ধারণের জন্য পরোক্ষ এখানকার পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল৷

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫