ভোটের বছরে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে মনোযোগী সরকার

নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম ব্যুরো

ভোটের বছরে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘবে মনোযোগী হয়েছে সরকার। জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের এক নম্বর সমস্যা। কিন্তু এত দিন খোদ সরকারদলীয় লোকজন ও নগরপরিকল্পনাবিদদের আপত্তি আমলে না নিয়ে নগরবাসীর জন্য অতি প্রয়োজনীয় নয় এমন কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগী ছিল নগর উন্নয়ন সংস্থা। সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ সময়ে অতি প্রয়োজনীয় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে মনোযোগী হয় সরকারি সংস্থাটি। এরই মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত মেগা প্রকল্পের আওতায় ১৬টি খাল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃখনন ও সংস্কারের জন্য চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই ৫০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর মোট ৩৬টি খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা হবে।
পাশাপাশি খালের খালের পাড় ঘেঁষে ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট, স্লুইস গেট নির্মাণ এবং বন্যার পানি সংরণে জলাধার নির্মাণ করা হবে।
ভোটের বছরে জলাবদ্ধতা নিয়ে জনােভ কিছুটা হলেও যাতে প্রশমিত করা যায় সে চেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী বর্ষার আগেই দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগ নিতে তৎপর সরকারের সংশ্লিষ্টরা। এরই অংশ হিসেবে ওই প্রকল্পের জন্য চলতি বর্ষার আগেই ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতনেরা।
এ দিকে ওই প্রকল্পের আওতায় আসছে বর্ষার আগেই জনগণ যাতে ‘কিছুটা সুফল’ পায় সে ল্েয ১৬টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের মনিটরিং কমিটির সভাপতি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। জলাবদ্ধতাকে ‘চট্টগ্রামবাসীর দুঃখ’ মন্তব্য করে তিনি মনিটরিং কমিটির সভায় বলেছেন, বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতায় মানুষ নৌকা নিয়ে চলাচল করে এবং সাঁতার কাটে। জলাবদ্ধতা থেকে পুরোপুরি পরিত্রাণ না পেলেও এবার কিছুটা উন্নতির জন্য কিছু খাল পরিষ্কার করা হবে, যাতে পানি দ্রুত নেমে যায়। পাশাপাশি পাঁচটি স্লুইস গেট করা হবে। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা ছাড় পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন মাস দিন-রাত কাজ করলে আসছে বর্ষায় নগরবাসী কিছুটা সুফল পাবেন।
সূত্র জানায়, যেসব এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতা হয় সেগুলোর জলাবদ্ধতা নিরসনে এ বছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৬টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে, কর্ণফুলী নদীর সাথে সংযুক্ত বাকলিয়া এলাকার চাক্তাই খালের ৬ কিলোমিটার, রাজাখালী এলাকার রাজাখালী খাল- ১, ২ ও ৩ এর সাড়ে ৭ কিলোমিটার, আগ্রাবাদ এলাকার মহেশ খালের ৬.৩০ কিলোমিটার, পাথরঘাটা এলাকার কলাবাগিচা খালের আধা কিলোমিটার, খাজা রোড এলাকার ডোমখালী খালের ৫.৩০ কিলোমিটার, পাথরঘাটা এলাকার মরিয়ম বিবি খালের ১ কিলোমিটার, ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের নোয়াখাল-বালুখালী খালের ৫.৮০ কিলোমিটার, শীতলঝর্ণা খালের সাথে সংযুক্ত ষোলশহর এলাকার মীর্জা খালের ৩.৯০ কিলোমিটার, চাক্তাই খালের সাথে সংযুক্ত চকবাজার ও পাঁচলাইশ এলাকার হিজড়া খালের ১.৬০ কিলোমিটার, মহেশখালের সাথে সংযুক্ত আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকার নাসির খালের দুই কিলোমিটার, রাজাখালী খালের সাথে সংযুক্ত বাকলিয়া এলাকার চাক্তাই ডাইভারসন খাল/বাকলিয়া খালের ২.৬০ কিলোমিটার ও বিরজা খালের ৪.৯ কিলোমিটার, মিরজা খালের সাথে সংযুক্ত হাজী চান মিয়া রোড এলাকার বামনশাহী খালের ১.৯ কিলোমিটার এবং হালদা নদীর সাথে সংযুক্ত খন্দকিয়া খালের ৮.৪০ কিলোমিটার খাল প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে পুনঃখনন ও সংস্কার করা হবে।
প্রসঙ্গত, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ সিডিএ। এতে সহায়তা করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.