ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

থেরাপি

আলু-পেঁয়াজের প্রেমকাহিনী

মাহবুবুর রশিদ

১৫ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সে অনেক দিন আগের কথা। গ্রামের এক মুদির দোকানে পাশাপাশি টুকরিতে বসবাস করত আলু ও পেঁয়াজ। সে সময় এক ভিআইপি লোক আলুর প্রশংসা করে বলছিলেন, ‘বেশি করে আলু খান, ভাতের ওপর চাপ কমান।’
এর পর থেকে আলুর জনপ্রিয়তা ব্যাপক বেড়ে যায়। তখন আলুর সাথে প্রেম করার জন্য মুদি দোকানের টুকরিতে থাকা সাদা কাপড় পরা সুন্দরী রসুন, পেঁয়াজ, আদা, মরিচ, ডাল ভাব জমায়। আলু কাউকে পাত্তাই দেয়নি। আলুর সাথে তখন মুদির দোকানে থাকা কলার ছড়ির হলুদ রঙের কাপড় পরা এক কলার মন দেয়া-নেয়া চলছে। আলুর গায়ে নোংরা কাপড় থাকায় কলা প্রথমে আলুর প্রেমে সাড়া দেয়নি। পরবর্তী সময় চুপিসারে চলে আলু-কলার প্রেম। কিন্তু খুব বেশি দিন টেকেনি সেই প্রেম। কারণ কলার লজ্জাশরম বলতে কিছু নেই। জনসমক্ষে হঠাৎ কাপড় খুলে ফেলে। আর তা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি আলু। একপর্যায়ে দু’জনের সম্পর্কে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। আলু এবার পাশের টুকরিতে থাকা পেঁয়াজের সাথে খাতির জমানোর চেষ্টা চালায়। সে একাধিক কাপড় পরে থাকে। পেঁয়াজ আলুকে বড় ভাইয়ের মতো দেখে। কারণ ব্যাচেলর প্রেমিক ভাইদের সাথে আলুর ওঠা-বসা। পাশাপাশি টুকরিতে থাকায় প্রথমে দুজনের প্রেম। আলু-পেঁয়াজের প্রেম বেশ ভালো চলছিল। আলু পেঁয়াজের হাত থুক্কু, খোসা ধরে বিকেল বেলা সবজিমহলে ঘুরতে বের হয়। বরবটি, ফুচকা আর পেঁয়াজু খাওয়ায় পেঁয়াজকে। দুজনের প্রেমের খবর মুদির দোকানে থাকা ভুসিমালের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এদিকে আলুর সাথে পেঁয়াজের প্রেমের কাহিনী শুনে রেগে মেগে আগুন হয়ে পেঁয়াজের বড় ভাই আপেল। সে আলুকে হুমকি দেয়Ñ ‘এই আলুর বাচ্চা! সামান্য গোলআলু হয়ে কোন সাহসে তুই আমার বোনের দিকে খোসা বাড়াইছস। আর যদি কোনো দিন আমার বোনের সাথে তোকে দেখি তাহলে আলুর ভর্তা বানিয়ে ফেলব কইলাম।’
আলু বেচারা সব হারিয়ে এখন মনের দুঃখে গান গায়Ñ
সব কিছুরই শুরু আছে শেষ হয়ে যায়
পেঁয়াজ এসে ভাব মেরে সেও চলে যায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫