ইয়াসিন আরাফাত : ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশী
ইয়াসিন আরাফাত : ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশী

ইয়াসির আরাফাত : ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশী

বিবিসি

বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৮টি উইকেট নিয়েছেন গাজী গ্রুপের ডানহাতি পেস বোলার ইয়াসির আরাফাত

লিস্ট 'এ' বা ঘরোয়া ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৮টি উইকেট নিয়েছেন গাজী গ্রুপের ডানহাতি পেস বোলার ইয়াসিন আরাফাত।

ক্রিকেট ইতিহাসে এক ওয়ানডে ইনিংসে ৮ উইকেট নেয়া একাদশ বোলার তিনি।

চলতি বছর হয়ে যাওয়া অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে তার খেলার কথা থাকলেও চোটের কারণে খেলতে পারেননি।

বুধবার গাজী গ্রুপ ক্রিকেটোর্সের আরাফাতের এই বোলিং তোপে ২৬ ওভার ১ বলে মাত্র ১১৩ রানে গুটিয়ে যায় আবাহনী।

এটি ছিল চলতি লিগে ইয়াসিন আরাফাতের প্রথম ম্যাচ। যেখানে ৪০ রান দিয়ে আট উইকেট নিয়েছেন তিনি।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় আরাফাতের।

গেল বছর অভিষেক ম্যাচেও আবাহনীর বিপক্ষে ৬টি উইকেট নিয়েছিলেন আরাফাত। সেবার তিনি ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলেন।

এই ফরম্যাটের ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড ছিল আব্দুর রাজ্জাকের।

এই বাহাতি স্পিনার ২০০৩-০৪ মৌসুমে ঢাকায় জিম্বাবুয়ে 'এ' দলের বিপক্ষে ১৭ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

আর লিস্ট 'এ' মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড ছিল ব্রাদার্সের শন উইলিয়ামসের।

২০১৩-১৪ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের এই বাঁহাতি স্পিনার কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে ২৫ রানে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট।

বাসস
আরাফাতের রেকর্ডের পর অসহায় আত্মসমর্পণ আবাহনীর

১৯ বছর বয়সী তরুণ ডান-হাতি পেসার ইয়াসির আরাফাতের বিধ্বংসী বোলিং-এর অসহায় আত্মসমর্পণ করে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে তৃতীয় হারের স্বাদ পেলো আবাহনী লিমিটেড। দশম রাউন্ডের ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে আবাহনী। ৮ দশমিক ১ ওভার বোলিং করে ৪০ রানে ৮ উইকেট নেন আরাফাত। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৮ উইকেট নিলেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের এটি তৃতীয় ম্যাচ ছিল আরাফাতের। তবে এবারের লিগে দ্বিতীয়। এই ৮ উইকেট শিকারে নিজের উইকেট সংখ্যা ৯-এ নিয়ে গেছেন এ ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া আরাফাত।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আবাহনীকে প্রথমে ব্যাটিং করার আমন্ত্রন জানায় গাজী গ্রুপ। প্রথম বোলার হিসেবে বল হাতে নিয়ে আবাহনী ব্যাটসম্যানদের সামনে নিজের কারিশমা দেখান আরাফাত। তার ভেল্কিতে উইকেটে গিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি আবাহনীর ব্যাটসম্যানরা।

১২ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর ওই স্কোরেই পঞ্চম ব্যাটসম্যানকে হারায় আবাহনী। এরমধ্যে চারটি উইকেটই ছিলো আরাফাতের। অন্যটি নেন বাঁ-হাতি স্পিনার টিপু সুলতান। ওপেনার এনামুল হককে ১০ রানে থামান তিনি। আরাফাতের শিকার ছিলেন সাইফ হাসান ১, নাজমুল হোসেন শান্ত ০, অধিনায়ক নাসির হোসেন ০ ও মোসাদ্দেক হোসেন ০।

ষষ্ঠ উইকেটে আবাহনীকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেন মোহাম্মদ মিথুন ও ভারতের মনন শর্মা। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি তারা। তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান সুলতান। ৪২ বলে ৪১ রান করা মিথুনকে থামিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় উইকেট নেন তিনি।

এরপর আবারো আবাহনী শিবিরে ঝড় তুলেন আরাফাত। আবাহনী শেষ চার উইকেটও তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৬ দশমিক ১ ওভারে ১১৩ রানে গুটিয়ে যায় আবাহনী। ৭টি চারে ৫৮ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন শর্মা।

জবাবে ১১৪ রানের টার্গেটে শুরুতে বিপদে পড়েছিলো গাজী গ্রুপও। ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। কিন্তু পরে আর কোনো বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক জহিরুল ইসলাম ও পাকিস্তানের ফওয়াদ আলম। তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন জহিরুল ও ফওয়াদ। এতেই ১২১ বল হাতে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গাজী গ্রুপ।

এই জয়ে ১০ খেলায় ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে রান রেট বিবেচনায় টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে উঠে এলো গাজী গ্রুপ। সমানসংখ্যক ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে এখনও সবার উপরে আবাহনী।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.