খালেদা জিয়ার সাথে কেন এমন আচরণ করা হচ্ছে!
খালেদা জিয়ার সাথে কেন এমন আচরণ করা হচ্ছে!

খালেদা জিয়ার সাথে কেন এমন আচরণ করা হচ্ছে!

ডয়চে ভেলে

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জামিন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেছেন, তার সাথে যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, খালেদা জিয়া যেন মফস্বলের নেতা৷ তার মতে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঠিক আচরণ করা হচ্ছে না৷

ডয়চে ভেলেকে দেয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হতাশার কথা জানান ব্যারিস্টার মওদুদ৷ তিনি অভিযোগ করেন, দেশে আইনের শাসন নেই৷ তাই যে নেতার পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে পাঁচটিতেই জয়ী হবার মতো জনপ্রিয়তা আছে, তার সঙ্গে ঠিক করা হচ্ছে না৷

‘‘এটা সমাজের পরিপক্কতার উদাহরণ৷ যেন তিনি মফস্বলের নেতা৷ এক মামলায় জামিন হলো, তো অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দিলাম৷''

সরকার বিচার বিভাগকে ‘হতাশ' করছে বলেও মনে করেন তিনি৷

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বুধবার খালেদা জিয়ার জামিন রোববার পর্যন্ত স্থগিতের আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ৷ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে এই সময়ের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করতে বলা হয়েছে৷

এর আগে, হাইকোর্ট পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে অন্তরীন খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিন মঞ্জুর করেন৷ সেই জামিনের রায় স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আলাদা আলাদা আবেদন করে৷ দুপুরে তা চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে উঠলে তিনি তা নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান৷ সেই শুনানি করে বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ জামিন স্থগিতের এই আদেশ দেন৷

আপিল বিভাগে বিষয়টি উঠলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুক্তি দেন, যেহেতু হাইকোর্টের জামিনের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি তারা পাননি, তাই আপিলের অনুমতির আবেদন করতে পারেননি৷ তার কথা শুনেই আদালত জামিনের আদেশ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেন৷

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বক্তব্য দিতে চাইলে আদালত তা রোববার শুনবেন বলে জানান৷ বিএপনিপন্থি আইনজীবীরা তখন ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘‘আমরা রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করিনি৷ আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছি আমাদের কথা শুনে তারপর রায় দেননি তাই৷ দু'টোর মধ্যে তফাত আছে৷''

ডয়চে ভেলে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে৷ তিনি বলেন, ;;তারা তখনই কথা বলবেন যখন মূল রায়টি পাবেন৷ তারাই তো ড্রাফট কপি নিয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন৷'' অ্যাটর্নি জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, ‘‘একই বিষয়ে আদালত দুইবার শুনবেন কেন?''

‘‘আজকেও শুনবে, আবার রোববারও শুনবে? আদালত বললেন যে, মূল পিটিশনটাই শুনবেন৷'' বলছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল৷

তিনি বলেন, ‘‘আজকে তো আদালতের সামনে কোনো রায় নেই৷ আজকে যদি তাদের কথা বলতে দিতেন, তাহলে তারা অনেক কথা বলতেন৷ নেত্রীর কাছে গিয়ে বলতে পারতেন, অনেক কথা বলেছি৷ কিন্তু লাভ তো হতো না৷''

এদিকে, রোববার জামিন হলেও খালেদা জিয়া মুক্তি না-ও পেতে পারেন৷ এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাননি৷ তবে সোমবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন যে, আপিল বিভাগ বেগম জিয়াকে জামিন দিলেও কুমিল্লার আদালত যেহেতু তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে, তাই তার এখনই মুক্তি মিলবে না৷

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘‘আমরা বলেই আসছি, দেশে আইনের শাসন নেই৷ পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে ভবিষ্যতে৷ ভালো কিছু হবে না৷''

রায়ের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে ৷ তাঁর মতে, এটি খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার নীলনকশার অংশ৷

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া৷ এই মামলায় তাকে পাঁচ বছরের ও তার পুত্র তারেক রহমানকে দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.