ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ মালিক (ফাইল ফটো)
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ মালিক (ফাইল ফটো)

হোয়াইট হাউজের বৈঠক বয়কট করলো ফিলিস্তিনিরা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

গাজা উপত্যকার চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য হোয়াইট হাউজে আয়োজিত বৈঠক বয়কট করেছে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরব উপস্থিত ছিল।

গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুসালেম) শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ আমেরিকার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে তারা এ বৈঠক বয়কট করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউজ এই প্রথম এ ধরনের বৈঠকের আয়োজন করল। বৈঠকে ইসরাইল ও সৌদি আরব ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, বাহরাইন, ওমান, কাতার, জর্দান, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ ১৭টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

২০ লাখ জন-অধ্যুষিত গাজা উপত্যকা ২০০৭ সাল থেকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের কঠোর অবরোধের মধ্যে রয়েছে এবং সেখানে অনেকটা মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ওই অবরোধের পর ইসরাইল গাজার ওপর অন্তত দুবার বড় রকমের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ বলেছে, ২০২০ সালের মধ্যে গাজা উপত্যাকা বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠবে। তবে ইসরাইল বলছে, গাজার ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য অবরোধ অব্যাহত রাখবে।

সিদ্ধান্ত না বদলালে আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় : ফিলিস্তিন
ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক সায়েব এরিকাত বলেছেন, বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন তা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে তারা কোনো আলোচনায় বসবেন না।

এরিকাত হচ্ছেন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা বা পিএলও’র মহাসচিব। তিনি বলেছেন, বর্তমান অবস্থায় যিনি বা যারা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করবেন তার অর্থ হবে তিনি বা তারা প্রকৃতপক্ষে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে মেনে নিচ্ছেন।

এরিকাত জানান, ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ফিলিস্তিনি নেতারা সব ধরনের পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন।

সায়েব এরিকাত বলেন, এ ঘোষণার পর দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আশা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া, শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো রকমের ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে আমেরিকাকে অযোগ্য করে দিয়েছেন ট্রাম্প।

কয়েক দশকের অনুসৃত নীতি ভেঙে গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাসকে (জেরুসালেম) ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেন। এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ধরনের উদ্যোগ নেননি।

বায়তুল মুকাদ্দাসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চীনের আহ্বান
বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুসালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে চীন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত ২২ ডিসেম্বর বেইজিংয়ে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের দুই প্রতিনিধি নাবিল শায়াস ও আহমাদ মাজদালানি’র সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান করা।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে যে প্রস্তাব পাস হয়েছে তা থেকে এটা স্পষ্ট আন্তর্জাতিক সমাজ চায় মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া তরান্বিত হোক।

আগের বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে আমেরিকার সিদ্ধান্তকে অনেকটা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য দেশ।

১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের জরুরি অধিবেশনে প্রস্তাবের পক্ষে ১২৮টি দেশ ভোট দিলেও বিপক্ষে ভোট দিয়েছে মাত্র ৯টি দেশ এবং ৩৫টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.