শামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হাসিনের নতুন অভিযোগ
শামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হাসিনের নতুন অভিযোগ

শামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হাসিনের নতুন অভিযোগ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

লড়াইয়ে অনড় থাকাই শুধু নয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শামির বিরুদ্ধে নতুন বিস্ফোরণ ঘটালেন হাসিন জাহান। তার অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ কল করে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এদিন হাসিন দাবি করেন, মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন ক্রিকেটার স্বামী।

হাসিন জাহান বলেন, ‘প্রথমে অন্যের ফোন থেকে বার্তা পাঠায় শামি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ কল করে চাপ দেয়। তার পাল্টা প্রশ্ন, কেন সামনে এসে ভুল কবুল করছে না শামি? এ প্রসঙ্গে তিনি কোনো আপস করবেন না জানিয়ে হাসিন বলেন, লড়াই চালিয়ে যাব।

এর আগে এদিন ফের লালবাজারে যান হাসিন জাহান। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন।

লালবাজার সূত্রের খবর, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন তিনি। তদন্তকারীদের তার অভিযোগ, সোশাল মিডিয়ায় তার নামে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে নতুন বিতর্ক। সকালে লেক গার্ডেন্স মোড়ের সামনে নিজের গাড়ি থেকে নেমে হঠাৎই তিনি চড়াও হন সংবাদমাধ্যমের গাড়ির উপর। ভেঙে দেন একটি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা। সন্ধ্যায় তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

গত কয়েকদিন ধরেই ক্রিকেটার স্বামী মুহাম্মদ শামির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ্যে এনে শিরোনামে হাসিন জাহান। এদিন ফের করলেন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। নিজেও জড়ালেন বিতর্কে।

অন্যদিকে, ১৯ মার্চ গোপন জবানবন্দি দেবেন হাসিন জাহান। তার ভিত্তিতেই এগোবে মামলা। লালবাজারের পক্ষ থেকে সোমবার আলিপুরের এসিজেএম আদালতে এই মর্মে আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনই মঞ্জুর করেছে আদালত।

গত সপ্তাহে শামির বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ আনেন তার স্ত্রী হাসিন। একই সঙ্গে হাসিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একাধিক নারীর সঙ্গে শামির চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। হাসিন শামির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে মামলাও দায়ের করেন। শামি অবশ্য তার বিরুদ্ধে স্ত্রী হাসিনের আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

পুরো বিষয়টিই নিয়ন্ত্রণের প্রায় বাইরে চলে যাওয়ার মুখে শামি এখন মিটমাট চান। গণমাধ্যমের সাথে আলোচনায় শামি বলেন, ‘যদি কথা বলে সমস্যার সমাধান করা যায়, তাহলে এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে? আমি মনে করি, এই মুহূর্তে সবকিছু মিটিয়ে ফেলাটাই আমার, আমার স্ত্রী ও আমাদের শিশুকন্যার জন্য ভালো হবে। যদি আমাকে এ জন্য কলকাতা যেতে হয় আমি রাজি আছি। কেবল কলকাতা কেন, আমি হাসিনের ডাকে যেকোনো জায়গায় গিয়ে ওর সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি।’

শামি নিজের বিরুদ্ধে উঠে আসা অভিযোগগুলোর ব্যাপারে সঠিক তদন্তও আশা করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলো প্রতিনিয়ত মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আমি এ ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা দিতে চাচ্ছি না। তবে আমি এই অভিযোগগুলোর ব্যাপারে ভালোভাবে তদন্ত হোক, সেটা চাই।’

স্ত্রী হাসিন অবশ্য জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে অভিযোগ করার আগেই তিনি তার স্বামীর সঙ্গে এ ব্যাপারগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাতে কাজ হয়নি। বললেন, ‘সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযোগ তোলার আগে আমি অনেকবার ওকে বোঝাতে চেয়েছি। আমি ওকে বলেছি, সে যেন অন্তত তার ভুলটা স্বীকার করে। আমি আমাদের বৈবাহিক জীবনের স্বার্থেই ওকে বুঝিয়েছি, কাজ হয়নি। সেদিন আমি যদি ওর গাড়ি থেকে মোবাইল ফোনটা না উদ্ধার করতাম, তাহলে উত্তর প্রদেশে বসে সে আমাকে তালাকের চিঠি পাঠাত।’

‘এখনও যদি সামি সংসার বাঁচাতে চায় বা মেয়ের চিন্তা করে তাহলে আমি নিশ্চয়ই ভেবে দেখব’, রোববার সংবাদ সম্মেলনে বলেন হাসিন।

স্ত্রীর সঙ্গে এই ঝামেলার কারণে গত সপ্তাহে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ পড়েছেন শামি। বিসিসিআই জানিয়েছে, এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শামি কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরেই থাকবেন।

মুদির দোকানির স্ত্রী থেকে ভারতীয় ক্রিকেটারের ঘরণী
ছিলেন সাধারণ ঘরের মেয়ে। তারপর মুদির দোকানির বৌ, দুই মেয়ের মা। সেখান থেকে এক লাফে ভারতীয় দলের ক্রিকেটারের অর্ধাঙ্গিনী। হাসিন জাহানের জীবনের গল্প সুপারহিট সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক তার সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।

হাসিনরা ৩ বোন। বড় বোন থাকেন দিল্লিতে, ছোট বোন বীরভূমে। বাবা পরিবহন সংক্রান্ত কাজকর্ম করেন। পড়াশোনায় সাধারণ মানের ছাত্রী ছিলেন হাসিন জাহান। খেলাধুলোয় আগ্রহ ছিল, জেলা স্তরে কিছু পুরস্কারও পেয়েছিলেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইতেন। তার বাবার দাবি, ছোটবেলা থেকে মেয়ে অন্যায় সহ্য করতেন না।

জীবনে বড় কিছু করতে চাইতেন হাসিন জাহান। ২০০২-এ বিয়ে করেন শেখ সৈফুদ্দিন নামে এক মুদির দোকানিকে। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় সৈফুদ্দিনের প্রেমে পড়েন তিনি। তারপর বাড়ির অমতে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে।

২০০৩-এ এই দম্পতির বড় মেয়ে জন্মায়। ৩ বছর পর ছোট মেয়ে। তখন থেকে মনোমালিন্যের শুরু। ২০১০-এ হয়ে যায় তালাক। তাদের বড় মেয়ে এখন পড়ে দশম শ্রেণিতে, ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। দুজনেই থাকে বাবার সঙ্গে।

সৈফুদ্দিন এবিপি আনন্দকে জানিয়েছেন, হাসিন কেন তাকে ছেড়ে চলে যান তার কাছে পরিষ্কার নয়। তবে সপ্তাহে বার দু’তিন ফোন করে দুই মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন হাসিন জাহান। তখনও মুহাম্মদ শামির সঙ্গে পরিচয় হয়নি তার। ২০১৪-র আইপিএলে চিয়ারলিডার ছিলেন তিনি। সে সময় আলাপ সামির সঙ্গে, সেখান থেকে প্রেম। তখন থেকেই কলকাতায় থাকতে শুরু করেন হাসিন। সে বছরই বিয়ে করে নেন শামিকে। তাদের ৩ বছরের একটি কন্যাও রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.