নেপালে বিমান দূর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক ফয়সালের বাড়ীতে শোকের মাতম

মোঃ বোরহান উদ্দিন রব্বানী, শরীয়তপুর

নেপালের কাঠমুন্ডতে বিমান দূর্ঘটনায় নিহত বিমানের যাত্রি বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ ফয়সালের শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় বাতাশ ভারী হয়ে উঠছে। ফয়সালের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকে শত শত লোকজন সোমবার গভীর রাত থেকেই তার বাড়ীতে ভীড় জমাচ্ছে। আত্মীয় স্বজনসহ এলাকার লোকজন কোন ভাবেই ফয়সালের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না। এ শোক যেন সহ্য করার মত নয়। যারা ফয়সারের পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দিচ্ছেন তারাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
সরেজমিনে জানা যায়, শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভার দক্ষিন ডামুড্যা গ্রামের সামসুদ্দিন সরদার ও মোসাম্মৎ সামসুন্নাহার বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল আহমেদ (৩০)। পাঁচ ভাই বোনের মধ্য সে দ্বিতীয়। ২০০৪ সালে ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর ঢাকা তিতুমির কলেজে এইচএসসি এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স সম্পন্ন করে ফয়সাল। ব্যক্তিজীবনে সে অবিবাহিত।
ফয়সাল বৈশাখি টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিল। ঢাকার ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে বড় বোন শিউলী আক্তারের বাসায় থাকতো সে। গ্রামের বাড়িতে খুব কম যেতো ফয়সাল। সর্বশেষ গত ৮/৯ মাস আগে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গ্রামে এসেছিল ফয়সাল।
গত সোমবার তিনি অফিস থেকে ৫দিনের ছুটি নিয়ে নেপালে যান। যাওয়ার প্রাককালে সে তার বড় বোন শিউলি বেগম কে বলে যান ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন। এটাই পরিবারের কারো সাথে ফয়সালের শেষ কথা ছিল। তবে গ্রামের বাড়িতে থাকা তার মা সামসুন্নাহার বাবা সামসুদ্দিন সরদার ছোট ভাই রাকিব কাউকেই জানায়নি সে দেশের বাইরে যাচ্ছেন।
তিনি সোমবার দুপুরে বিমান দুর্ঘটনায় প্রথমে নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ আসে। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফয়সাল ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ফয়সালের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকে শত শত লোকজন সোমবার গভীর রাত থেকেই তার বাড়ীতে ভীর জমাচ্ছে।
মঙ্গলবার শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ফয়সালদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। ছেলের শোকে ফয়সালের মা সামসুন্নাহার বেগম বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার 'বাবা, আমার বুকে আসো বাবা' বলে বিলাপ করছেন। ছোট ভাই রাকিব আহমেদ রাজু ভাইকে হারানোর বেদনায় ফয়সালের ছবি বুকে নিয়ে বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। পুরো পরিবারের কান্নায় আশেপাশের স্বজনরা শান্তনার বানী হারিয়ে ফেলছেন।
এ ব্যাপারে ফয়সালের মা সামসুন্নাহার বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার বাবার খবর দেও। আমার ফয়সাল কে এনে দাও। আমার বাবার সঙ্গে গত ৯ ফেব্রুয়ারী শেষ কথা হয়েছে। খালেদা জিয়ার কারাবরনের দিন আমাকে ফোন করে বলেছিল মা কেমন আছেন? আমি বললাম তুমি কই?। বলে মা আমি খালেদা জিয়ার নিউজ ধরতে কোর্টে এসেছি। বললাম বাবা তুমি বাসায় চলে যাও। বলেকি মা সমস্যা নেই। চিন্তা করবেন না। এটাই আমার সঙ্গে তার শেষ কথা।
ফয়সালের বাবা আলহাজ সামসুদ্দিন সরদার বলেন, আমি জানি ফয়সাল ঢাকায়। বাহাদুর বেপারী আমাকে বিকেলে যখন ফোন করে জানতে চায় ফয়সাল কোথায়? এরপর আমি বড় মেয়েকে ঢাকায় ফোন করে জানতে চাই ফয়সাল কোথায়? সে বলে ফয়সাল ৫দিনের জন্য ঢাকার বাইরে গেছে। আমি ফয়সালকে বার বার বারন করেছিলাম সাংবাদিকতা না করতে। সে শুনেনি। সে এত কষ্টের চাকুরী করতে গিয়ে আজ এ পরিনতি হলো।
ডামুড্যা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ মর্মান্তি দর্ঘটনায় সাংবাদিক ফয়সালের মৃত্যুতে আমরাও শোকাহত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.