জাতীয়করণের দাবিতে বেসরকারি শিক্ষকেরা ঢাকামুখী

আজ একাংশের, ২০ মার্চ অপরাংশের মহাসমাবেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ দাবিতে সব পক্ষের শিক্ষকেরা এখন ঢাকামুখী। তিন দিন ধরে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলে শিক্ষক ধর্মঘট পালন শেষে আজ রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে বেসরকারি শিক্ষকদের একাংশ। বর্তমান সরকার সমর্থক ১০টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আহ্বানে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস ভাড়া করে শিক্ষক-কর্মচারীরা গত রাতেই ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন, সংগ্রাম কমিটির অন্যতম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হক। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের মূল দাবিসহ ১১ দফা দাবিতে এ মহাসমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। এ দাবিতে গত তিন দিন সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষকেরা ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। বুধবার মহাসমাবেশ থেকে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে।  
অন্য দিকে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের একক বৃহৎ সংগঠন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট ইতঃপূর্বে ১৯ মার্চ জাতীয় প্রেস কাবের সামনে মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করলেও গতকাল তা এক দিন পিছিয়ে ২০ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করেছে। ১৯ মার্চ রাজধানীতে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সমাবেশ থাকায় পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি এক দিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে বলে ওই জোটের নেতা অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভূঁইয়া গতকাল বিকেলে নয়া দিগন্তকে জানান। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির সাথে মিলিয়ে নয়, শিক্ষকদের নিজস্ব দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতেই শেষ মুহূর্তে কর্মসূচি এক দিন পেছানো হলো। 
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ দাবি ছাড়াও শিক্ষকদের বড় দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বছরান্তে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মতো ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট , বৈশাখী ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও পেনশন ব্যবস্থা চালুকরণ। এসব দাবিতে ইতোমধ্যে সারা দেশে শিক্ষক সংগঠন ও জোট পৃথক সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করেছে। ইতঃপূর্বে ঢাকায় অবস্থান ধর্মঘটও পালন করেছে শিক্ষকদের অপর একটি অংশ। কিন্তু এ পর্যন্ত ওই দাবিগুলোর ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমান সরকারের মেয়াদ আর মাত্র কয়েক  মাস, এ অবস্থায় দাবিগুলোর ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বারবারই অর্থ মন্ত্রণালয়কে দায়ী করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা বক্তব্য নেই। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার সমর্থক ও বিরোধী দল সমর্থক শিক্ষক সংগঠনগুলো এ মুহূর্তে রাজপথেই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকামুখী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলে জানান এক শিক্ষক নেতা।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী মো: নজরুল ইসলাম রনি গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, জাতীয়করণের দাবি এখন শিক্ষকদের এক দফায় পরিণত হয়েছে। এ দাবিতে বুধবারের ও ২০ মার্চের মহা-সমাবেশের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক সংগঠনগুলো এক মঞ্চে আসতে পারলে ভালো হতো। আমরা  বছরের শুরুতে ১৯ দিন জাতীয় প্রেস কাবের সামনে অনশন করেছি। দাবি থেকে আমরা এখনো সরে আসিনি।
সমাবেশের প্রস্তুতিতে পুলিশের বাধা : অধ্যক্ষ আসাদ পুলিশি হেফাজতে 
শাহবাগ থানা পুলিশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজির হয়ে মহাসমাবেশের প্রস্তুতির মঞ্চ তৈরিতে গতকাল বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক- কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা আজিজুল ইসলাম। তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হককে পুলিশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে গাড়িতে করে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসেন। তাকে সমাবেশ না করার লিখিত মুচলেকা দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন পুলিশের কর্মকর্তা। 
আজিজুল ইসলাম আরো জানান, পুলিশের কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার অনুমতি আছে কি না জানতে চান। শিক্ষক নেতারা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন করেই শিক্ষকেরা অতীতে সমাবেশ করেছেন। এবারো তাই করা হচ্ছে। পুলিশের কর্মকর্তারা শিক্ষক নেতাদের সমাবেশের আয়োজন বন্ধ করতে বলেন এবং একপর্যায়ে অধ্যক্ষ আসাদুল হককে গাড়ি তুলে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসেন। 
অধ্যক্ষ আসাদুল হককে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালেও থানায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাতে অস্বীকার করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টায়) অধ্যক্ষ আসাদুল হককে ছাড়া হয়নি বলে সরকার সমর্থক শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাধিক নেতা নয়া দিগন্তকে জানান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.