রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে চীন ভারতকে নৈতিক নেতৃত্ব দিতে হবে : এডামা দিয়াং

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে চীন ও ভারতকে কেবল রাজনৈতিক নয়, নৈতিক নেতৃত্ব দিতে হবে মন্তব্য করে গণহত্যা প্রতিরোধে জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি এডামা দিয়াং বলেছেন, এটা মানবতার বিষয়, যার সাথে মানুষের জীবন জড়িয়ে রয়েছে। বৃহৎ শক্তি হিসেবে চীন ও ভারতকে এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, রাখাইনে নৃশংসতা চালানোর সাথে জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গুরুতর অপরাধ অস্বীকার করার মিয়ানমারের প্রচেষ্টা হতবাক করা মতো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদকে রাখাইন নৃশংসতার সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ভিন্ন পন্থা বিবেচনায় নিতে হবে। বিশ্ব এ ধরনের বর্বর আচরণ সহ্য করতে পারে না।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার কাছ থেকে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিকে নৈতিক নেতৃত্ব শেখার আহ্বান জানান জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি।
বাংলাদেশে ছয় দিনের সফর শেষে গতকাল রাজধানীর আগরগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এডামা দিয়াং এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ সফরকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।
জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি বলেন, পোড়া মাটি নীতি অবলম্বন করে গত আগস্টের পর সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযান সম্পর্কে আগে থেকেই আঁচ করা গিয়েছিল এবং তা প্রতিরোধযোগ্যও ছিল। এ ব্যাপারে আমি অসংখ্যবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলাম। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বালুতে মাথা ঢুকিয়ে রেখেছিল। এ জন্য রোহিঙ্গাদের জীবন, মানসম্মান ও বাসভূমি বিসর্জন দিয়ে মূল্য দিতে হয়েছে।
রাখাইনে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে মুসলিম সংখ্যালঘুদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও জীবন্ত জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, রাখাইনকে রোহিঙ্গা শূন্য করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। সম্ভবত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকেই ধ্বংস করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। এটি প্রমাণিত হলে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা গণহত্যার পর্যায়ে পড়বে। তবে এই ঘটনাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা গণহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হোক বা না হোক, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় আমাদের এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত। কেননা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কাছে আমরা ঋণী।
মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। আন্তর্জাতিক আইনে রাখাইন সহিংসতার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার উপায় কী জানতে চাওয়া হলে জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি বলেন, সুদান বা লিবিয়াও আইসিসি সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ ছিল না। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে এ দুই দেশের অপরাধীদের আইসিসিতে বিচারের আওতায় আনা গেছে। সেনেগালের একজন অপরাধী ২০ বছর নির্বাসনে থাকার পর আন্তর্জাতিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে গেছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানও একদিন মিয়ানমারের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ঐক্যবদ্ধ হবে বলে আমি আশাবাদী।
গণহত্যার আলামত ধ্বংস করতে মিয়ানমারের তৎপরতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, নৃশংসতার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ আমাদের এখনই শুরু করা দরকার। এ জন্য রাখাইনে যাওয়া সম্ভব না হলে কক্সবাজারেই কাজ করা প্রয়োজন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.