নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সিভিল অ্যাভিয়েশন চেয়ারম্যান

তদন্তে কোনো কিছুই গোপন থাকবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ নিহত ও আহতের স্বজনদের নেপালে নিয়ে একটি ভালো কাজ করেছে। এই মুহূর্তে যারা মারা গেছেন তাদের লাশগুলো শনাক্ত করা এখন চ্যালেঞ্জ। কারণ সেখানে অনেক দেশের যাত্রী ছিলেন। 
গতকাল দুপুরে সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান এ কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মূল কাজটি করবে নেপাল। তবে তদন্তে ব্লাকবক্সের তথ্য উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হলে অনেক তথ্যই বের হয়ে আসবে। কোনো কিছুই গোপন থাকবে না।  নেপাল বিমানবন্দর টাওয়ারের সাথে পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ড প্রসঙ্গে সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান নাইম হাসান বলেন, আমি বিভিন্নভাবে শুনেছি। কিন্তু এগুলো নির্ভরযোগ্য (ভেরিফাইড) না। আমরা পুরো বিষয়টি এনালাইসিস করছি। তাই এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না। আমাদের একটা তদন্ত কমিটি আছে, যদিও তদন্ত কমিটি বলা যাবে না। আমরা নেপালের সাথে সমন্বয় করে কাজ করব। মূল কাজটি করবে নেপাল। তিনি বলেন, ব্লাক বক্সের তথ্য উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হলে সেই তথ্য উদ্ধার করতে পারবে। তখন অনেক তথ্য উদঘাটন হয়ে আসবে। তবে তদন্ত শেষ হতে কত দিন লাগতে পারে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনার পর দু’টি পার্ট আছে, এক হলো তদন্ত, আরেকটি হলো হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার ও নিহতদের লাশ শনাক্ত করা। তদন্তের পার্টে আমরা তদন্ত করছি না, কারণ আমাদের এখতিয়ার নেই। 
বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে কোনো ত্রুটি ছিল কি না জানতে চাইলে নাইম হাসান বলেন, সিভিল অ্যাভিয়েশনের সার্টিফিকেশন ছাড়া কোনো উড়োজাহাজ চলতে পারবে না। এই উড়োজাহাজটি নেপালে যাওয়ার আগে একটি ফাইট করে এসেছিল। ওই দিন সকালে একবার ও দুপুরে একবার উড়োজাহজটি ফাইটে গিয়েছিল। অতএব, উড়োজাহাজটি ভালো ছিল, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। উড়োজাহাজের প্রত্যেক তথ্য আমাদের ফাইট সেফটি বিভাগে থাকবে। বিমান কখনো পুরনো হয় না। উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের লাইফ সার্কেল রয়েছে। সেটি শেষ হলে ইঞ্জিন পরিবর্তন করলেই শুধু হয়।
এ দিকে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজ ল্যান্ডিং যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয় সেই ক্ষেত্রে নতুন করে ফিরে এসে আবারো ল্যান্ডিং প্রস্তুতি নেয়ার নিয়ম রয়েছে। এটাতে এয়ারলাইন্সের ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘গো ডাউন’ ফর্মুলা। তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলটের ক্ষেত্রে নেপাল সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (টাওয়ার) কি ধরনের আচরণ করেছিল সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.