ছাত্রদল নেতা মিলনের মৃত্যু আঘাতজনিত হার্ট অ্যাটাক কিনা জানতে সময় লাগবে : ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশের হাতে গ্রেফতার ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ও তেজগাঁও ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলন নির্যাতন জনিত কারণে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন কিনা তা নিশ্চিত হতে সময় লাগবে। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পোস্টমর্টেম শেষে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এ কথা জানান।  ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: সোহেল মাহমুদ দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, পোস্টমর্টেমে নিহতের শরীরে কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হার্ট অ্যাটাক আঘাতজনিত কারণে কিনা তা ভিসেরা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওই রিপোর্ট পেতে সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
মেডিক্যাল সূত্র জানায়, ডা: সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড ছাত্রদল নেতা মিলনের লাশের পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করেন। দুপুরের পর পরিবারের পক্ষ থেকে চাচা অলিউল্লাহ মর্গ থেকে ভাতিজার লাশ গ্রহণ করেন। বিকেলে গাজিপুরের পুবাইল এলাকায় তাকে দাফন করা হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেস কাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। শাহবাগ থানার মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১১ মার্চ রোববার তাকে জেলে পাঠানো হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন ছাত্রদল নেতা মিলন। সোমবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন। বিএনপিসহ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনেই মিলনের মৃত্যু হয়েছে। 
এ দিকে পোস্টমর্টেম শেষে গতকাল দুপুরে মিলনের লাশ নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানসহ সিনিয়র নেতারা মিলনের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ দিকে ছাত্রদল নেতা মিলনের অনাকাক্সিত মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। মিলনকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান যেন শোকে পাথর হয়ে আছেন। দুই শিশুসন্তান বাবাকে মনে করে বারবার কান্না করছে। স্বজনদের অভিযোগ, সুস্থ মিলন পুলিশের রিমান্ডে নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসা করানো হয়নি। স্বজনেরা অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগের দিন রোববার বিকেলে মিলন নিজেই তার ওপর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। 
নিহত মিলনের চাচা অলিউল্লাহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সাংবাদিকদের জানান, তিন দিনের রিমান্ডে থাকার পর ১১ মার্চ রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে মিলনকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সেখান থেকে জেলে পাঠায় আদালত। জেলে যাওয়ার আগে মিলনের সাথে তার সর্বশেষ কথা হয়। মিলন তাকে জানিয়েছেন রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাকে (মিলন) ব্যাপক নির্যাতন করেছে পুলিশ। টানা তিন দিনের বেশি সময় ধরে তাকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি জানান, জেলে নেয়ার সময় মিলন বলেছে চাচা আমি হয়তো আর বাঁচব না। আমাকে যেভাবে মারা হয়েছে এতে আমার বাঁচার উপায় নেই। এটি ছিল মিলনের সাথে তার শেষ কথা। অলিউল্লাহ বলেন, মিলনের এই মৃত্যুর জন্য বিচার চেয়ে তারা মামলা করবেন। থানা মামলা গ্রহণ না করলে তারা আদালতে যাবেন বলেও জানান।
মিলনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: মেহেদী হাসান নয়ন জানান, রোববার তারা মিলনের জামিনের আবেদন করেছেন। কিন্তু বিকেল ৫টায় মিলনকে জেলহাজতে পাঠায় আদালত। তবে জামিন শুনানির সময় মিলনকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়নি। সকালে তার মৃত্যুর খবর পান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, মিলনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আর এ কারণেই মৃত্যু হয়েছে।
এ দিকে মিলনের মৃত্যুর ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাফর বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় কারাগারের একজন কারারক্ষী বাদি হয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.