ঢাকা, সোমবার,২৫ মার্চ ২০১৯

নগর মহানগর

ছলচাতুরি করে খালেদা জিয়াকে আটকে রাখতে চাচ্ছে সরকার : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মার্চ ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ছলচাতুরি করে আটকে রাখতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস কাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মাদার অব ডেমোক্র্যাসি বেগম খালেদা জিয়াকে ছলচাতুরি করে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানতে চান এ ভয়ের নেপথ্য কারণ কী? মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের ভয়ের কারণ একটাই। খালেদা জিয়া যদি আজ কারা মুক্ত হন তাহলে আপনাদের ওই মসনদ জনস্রোতে ভেসে যাবে। এ কারণে আপনারা তাকে আটকিয়ে রাখছেন। আমরা বলতে চাই, দেশনেত্রী বেশি দিন কারাগারে থাকবেন না। রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমেই আমরা তাকে অতি দ্রুত মুক্ত করব।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের বিরুদ্ধে সরকার চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করাচ্ছে। আমি বলতে চাই, জনগণের শক্তিকে ভয় পাচ্ছে বলেই আজকে তারা বিভিন্ন কৌশলে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে লাভ হবে না। আমাদের দেশে একটা কথা আছে শকুনের বদ দোয়ায় গরু মরে না।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথেই আন্দোলনে সফলতা আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন আপনারা এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন, লাভ কী হচ্ছে। আমি বলতে চাই, এটাই একমাত্র পথ। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনকে সরকার ভয় পাচ্ছে। 
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি আরো শক্তিশালী হয়েছে। সব নেতাকর্মী এক হয়ে গেছে। এখন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি অনেক ঐক্যবদ্ধ, অনেক শক্তিশালী।
সংগঠনের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও অমলেশ দাস অপুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, জন গোমেজ, অর্পনা রায়, নিপুন রায় চৌধুরী, সুশীল বড়ুয়া, দেবাশীষ রায় মধু, জয়দেব জয় প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
ছাত্রদলের তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান মিলনকে পুলিশি নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মিলনের মা, তার বোন আহজারি করছেন যে মিলনকে সুস্থ অবস্থায় আটক করা হলো। অথচ তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে তারা (পুলিশ) কি করল যে, সে লাশ হয়ে ফিরল? মিলনকে নির্যাতন-নিপীড়ন করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর তাকে তারা জেলে পাঠিয়ে বলেছে যে, সে জেলে মারা গেছে।
তিনি বলেন, এই ছেলেটি জীবন দিয়েছে কেবল গণতন্ত্রকে ভালোবাসবার জন্য, গণতন্ত্রের রাজনীতি করার জন্য, দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য। আজকে মিলন একা নয়, গত কয়েক বছরে আমাদের অনেক মিলন চলে গেছে। ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যারা নিখোঁজ হয়েছে তারা কেউ ফিরে আসেনি।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে কিভাবে জাতীয় নির্বাচন হবে এ প্রশ্ন উত্থাপন করে ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলছি, আমরা নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কিন্তু সেই নির্বাচন কিভাবে হবে? একটা নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছেন তা আপনাদের (মতাসীন) লোকজন দিয়ে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে আমাদের সাড়ে পাঁচ হাজার নেতাকর্মীকে আপনারা জেল দিয়েছেন। মতায় আসার পর থেকে ৭৮ হাজার মামলা দিয়েছেন আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে, সাড়ে ১৮ লাখ আসামি বানিয়েছেন। এই হচ্ছে রাষ্ট্রের অবস্থা।
২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ ১০ নেতার গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তির দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫