শোকাচ্ছন্ন দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি ঝুলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওয়ালে ওয়ালে। কেউ লিখেছেন ‘ফয়সাল আর নেই। আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না তিনি।’ আবার কারো কারো ওয়ালের লেখা, ‘বিশ্বাস করতে পারছি না, ফয়সাল নেই।’ ফয়সালের মৃত্যু নিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাস! এটাতো হতেই পারে। প্রাণবন্ত ফয়সাল অফিস  থেকে ছুটি নিয়ে নেপাল গিয়েছেন। সেখান থেকে এভাবে ফয়সালের মৃত্যু সংবাদ শুনে কার বিশ্বাস করার কথা? 
আহম্মেদ ফয়সাল বৈশাখী টিভির রিপোর্টার। জীবন-মৃত্যু নিয়ে যাই ঘটুক; ফয়সালের পরিবার, স্বজন, বন্ধু, সহকর্মীরা এখন গভীরভাবে শোকাচ্ছন্ন। পুরো সাংবাদিকসমাজ গতকাল যত আলোচনা করেছে তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই দুর্ঘটনা ও ফয়সালের মৃত্যু। আলোচনায় ছিলেন ইউএস-বাংলা বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান, ক্যাপ্টেন পৃথুলা রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের ছাত্র রফিক জামান, তার স্ত্রী সানজিদা হক, সন্তান অনিরুদ্ধসহ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নিহতরা। তাদের জন্য গোটা দেশই এখন শোকাচ্ছন্ন।
ফয়সালকে নিয়ে অসংখ্য মানুষ লিখেছেন, ‘ফয়সাল ফিরে আয়। কেন গেলি নেপালে? তোর এখনই যাওয়ার দরকার ছিল? ইত্যাদি আরো অনেক কিছু। ফয়সাল ছিলেন প্রাণবন্ত। সারাক্ষণ বন্ধুদের মাঝে থেকে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন। তাই হয়তো অগণিত মানুষ তাকে নিয়ে লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের ছাত্র ছিলেন রফিক জামান। এই পরিবার নিয়েও অসংখ্য মানুষ তাদের শোক জানিয়েছেন। রফিক জামানের পুরনো বন্ধুরা তাকে নিয়ে লিখতে গিয়ে নানা স্মৃতির কথা লিখেছেন। রফিক জামানের পুরো পরিবারটিই শেষ হয়ে গেছে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নের পিয়াস রায়ের মধুকাঠির গ্রামের বাড়িতে কান্নার রোল চলছে। পিয়াসের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় নলছিটি উপজেলার চন্দ্রকান্দ্রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক। মা পূর্ণিমা রায় বরিশাল নগরীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক। পিয়াস গোপালগঞ্জের সাহেরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ থেকে ফাইনাল পরীায় অংশ নিয়েছে। এ বছরের ৫ মার্চ তার পরীা শেষ হয়।
পিয়াস রায়ের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় জানান, নেপালে পিয়াসের বন্ধুরা রয়েছে। এর আগেও দেশের বাইরে ঘুরতে গেছে পিয়াস। নেপালে রওনা দেয়ার আগে ১২ মার্চ সকালে ও সর্বশেষ প্লেনে ওঠার আগে সোয়া ১১টায় মায়ের সাথে  ফোনে কথা হয়। এর পর থেকে পিয়াসের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। যা  জেনেছেন টেলিভিশনের খবরে জানতে পেরেছেন।
এ দিকে সন্তান হারিয়ে পরিবারে এখন শোক আর শোক। দুই ভাইবোনের মধ্যে পিয়াস রায় ছিল বড়। তার বোন শুভ্রা রায় রাজধানীর নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিার্থী।
এভাবেই ঘরে ঘরে এখন শোক বইছে। গতকাল অনেকের সাথেই কথা হয়। সবার মধ্যেই শোকাচ্ছন্ন ভাব। অনেকেই বলেছেন, তরতাজা মানুষগুলো কিভাবে মরে গেলো! 
বিমান দুর্ঘটনায় যারা জীবিত আছেন তাদের জন্য সবাই দোয়া করছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.