ছাত্রদল নেতা মিলনের দাফন সম্পন্ন

বাংলাদেশ বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশি হেফাজতে থাকাবস্থায় নিহত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি জাকির হোসেন মিলনের তৃতীয় দফা নামাজে জানাজা শেষে গাজীপুরের পূবাইলের মজুখানে তাকে দাফন করা হয়েছে। গতকাল বাদ জোহর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। উপস্থিত অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদদের নামের তালিকায় আরেকটা নাম যোগ হলো। যারা এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যায়-অত্যাচর নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে তাদের মধ্যে মিলন ছিল অন্যতম। এরপরই মির্জা ফখরুলের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। নিজেকে সামলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। সারা দেশ আজকে নির্যাতন- নিপীড়ন গুম খুনের শিকার হয়ে পড়েছে। মিলন আমাদের দেখিয়ে গেছে আত্মত্যাগের পথ সাহসের পথ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পথ। আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করছি এই দুঃশাসন থেকে আমাদের মুক্তি দিন। মুক্তি দিন আমাদের সন্তানদের। মুক্তি দিন ভব্যিষৎ প্রজন্মের জন্য।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এই দেশকে মুক্ত করার জন্য যারা জীবন দিচ্ছেন, প্রাণ দিচ্ছেন তাদের প্রতি আমাদের সালাম। তাদেরকে অভিবাদন। মিলনের এই শাহাদত আমাদেরকে শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সবাইকে নিয়ে অব্যাহত রাখব। বিজয় আমরা নিশ্চয়ই অর্জন করব।
এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও বক্তৃতাকালে আবেগ্লাপুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আজকে আমরা সহানুভূতি প্রকাশ করছি; যদিও এটি দিয়ে তার ও পরিবারের লাভ হবে না। এরপর তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। খানিকটা চুপ হয়ে যান। নিজেকে সামলে আবারো আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, তাজা একটি ছেলে। তরতাজা একজন তরুণ, এমন একটি ছেলেকে এমনটিভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলল। দেশের মানুষ দেখছে কী অপরাধ ছিল তার। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছে আমরা তার প্রতিবাদে করছিলাম প্রেস ক্লাবের সামনে, সেখান থেকে ছোঁ দিয়ে শকুনের মতো করে একটা ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে গেল। লাশ পাওয়া গেল হাসপাতালে!
তিনি বলেন, আমরা কোন দেশে বসবাস করছি। যখন খুশি তাকে ধরে নিয়ে যাবে, যখন খুশি তাকে মেরে ফেলবে। হাইকোর্টের নির্দেশ আছে সিভিল ড্রেসে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। সেই নির্দেশ অমান্য করছে তারা আজকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে। এরা দেশের রক্ষক নয়। এরা আওয়ামী সরকারের রক্ষক। মানুষের রক্ষক নয়। আমরা কোথায় যাব? আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.