কেন্দ্র দখল, কারচুপি, অনিয়ম ও জালভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নাসিরনগর উপনির্বাচন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা

কেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও জালভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল ১০টা পর্যন্ত এই আসনের ৭৪টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হলেও এরপর চেহারা পাল্টে যায়। শুরু হয় জালভোটের মহড়া। এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে মারধর করে এজেন্টদের বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ দিকে বিকেল ৪টায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রেজোয়ান আহমেদ ভোট ও নির্বাচন প্রত্যাহার করে নতুন নির্বাচনের দাবি করেন। এসময় তিনি জানান পুলিশের সহায়তায় এই নির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে। পাশাপাশি দুইটার মধ্যে ৭৪ কেন্দ্রের মধ্যে আমার নিজের কেন্দ্রটি ছাড়া ৭৩ কেন্দ্রই দখলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ এর নেতাকর্মীরা। এসব বিষয় অস্বীকার করে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জনান, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোনোপ্রকার অনিয়ম হয়নি।
গতকাল সকাল থেকেই নাসিরনগরের ১৩টি ইউনিয়নের ৭৪টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ১০টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চললেও এরপর চেহারা পাল্টে যায়। কেন্দ্র দখল, কারচুপি, অনিয়ম, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া ও জালভোটের মহড়া শুরু হয় কেন্দ্রগুলোতে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনের সহায়তায় প্রকাশ্যে সিল দেয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ করা হয়। সকালেই উপজেলার কুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষের লোকজন প্রশাসনের সহায়তায় এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। দুপুরে ফান্দাউক পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেখানে লাঙ্গল প্রতীকের কোনো এজেন্ট নেই। এছাড়া এই কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারতে দেখা যায়। পাশাপাশি সেখানে জাল ভোট দেয়ার হিড়িক দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছে ৩ হজার ৭৮ জন। কেন্দ্রের সামনে লাইনে কোনো ভোটার না থাকলেও বেলা ২টায় গিয়ে দেখা গেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রেই ছিল একই চিত্র। এ বিষয়ে সেখানে দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, পিজাইডিং অফিসারের কাছে বলে তারা বাইরে গেছেন।
জাপা প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘোষণা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন ও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রেজোয়ান আহমেদ।
বিকেল সাড়ে ৩টায় নাসিরনগর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে সকাল ১০টার পর থেকেই বাড়তে থাকে অনিয়ম। দুইটার মধ্যে পুলিশের সহায়তায় ৭৪ কেন্দ্রের মধ্যে তার নিজের কেন্দ্র বাদে বাকিগুলো দখলে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন। এ সময় এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। এ ছাড়াও ব্যাপক ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও জালভোট শুরু হয় পুলিশের সহায়তায় নির্বিঘেœ। এতে বাধা দিলে তাকে ও তার অনেক কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। রেজোওয়ান আহমেদ এই নির্বাচনকে প্রহসন উল্লেখ করে নির্বাচন ও ফলাফল বর্জনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনেরও দাবি করেন।
তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বি এম ফরহাদ সংগ্রাম নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু আখ্যায়িত করে বলেন, নির্বাচনে পরাজয় হবে জেনে জাপা প্রার্থী প্রলাপ বকছেন।
তিনি ফলাফল যা-ই হোক মেনে নেবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও কুমিল্লার বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তা মো: শাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, এখানে নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এখানে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। পাশাপাশি রেজোয়ান আহমেদ যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.