মানবতাবিরোধী অপরাধ নোয়াখালীর ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলায় নোয়াখালীর সুধারামের জামায়াত নেতা আমির আহম্মেদসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন হলেন- আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর ও জয়নাল আবদিন। অপর আসামি আব্দুল কুদ্দুসকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল বিচারপতি মো: শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আমির আলী, আবুল কালাম ও জয়নাল আবদিনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আব্দুল কুদ্দুসকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
আসামিদের বিরুদ্ধে ৩ অভিযোগ : ১৯৭১ সালের ১৫ জুন নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন শ্রীপুর ও সোনাপুর গ্রামে পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে আসামিরা আক্রমণ করে গ্রামের ৪১ জনসহ শতাধিক নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা, নির্যাতন, বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে।
১৯৭১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন পশ্চিম করিমপুর ও দেবীপুর গ্রামে আসামিরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমদকে হত্যা, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ওরফে কালাকে অপহরণ ও পরে তার লাশ না পাওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
১৯৭১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন রামহরিতালুক, দেবীপুর ও উত্তর চাকলা গ্রামে আসামিরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিয়ে আক্রমণ করে আনুমানিক ৩০০ নিরীহ নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে আটক করে রামহরিতালুক স্কুল বা ইউনিয়ন বোর্ড অফিসের সামনে নিয়ে এসে নির্যাতন করে। এর মধ্যে ৯ জনকে গুলি করে হত্যা এবং অনেক বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার আসামি ওই চারজনের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন আমির আহম্মেদ ওরফে আমির আলী, জয়নাল আবদিন ও আব্দুল কুদ্দুস। পলাতক রয়েছেন আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর। এ ছাড়া আসামি ইউসুফ আলী গ্রেফতার হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেফতার হন আমির আহম্মেদ, জয়নাল আবদিন ও ইউসুফ আলী। পরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেফতার করা হয় আব্দুল কুদ্দুসকে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.