মেহেদি রাঙা হাত ও আংটি দেখে আঁখির লাশ শনাক্ত

ফয়সল আহমেদ বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

লাশে পোড়া গন্ধ। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শরীর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী দক্ষিণ পাড়ার বাবা রফিকুল ইসলাম পেশকার মেয়েকে ছোট থেকে আদর করে ডাকতেন সোনামণি বলে। সেই নাম আজো রয়ে গেছে। আসল নাম আঁখিমণি হলেও সবাই ভালোবেসে ডাকত ওই নামেই। সেই সোনামণির পুড়ে যাওয়া শরীর চেনা যাচ্ছিল না। অবশেষে বিয়ের মেহেদির রঙ ও আঙটি দেখে বাবা পেশকার মিয়া মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।
জানা গেছে, পুড়ে যাওয়া মেয়ের শরীর দেখে বাবা ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। পরে নেপালের পুলিশ ও চিকিৎসকেরা তাকে সেবা ও সান্ত্বনা দেন।
উল্লেখ্য, নেপালে হানিমুন করতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী গ্রামের রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়ার মেয়ে আঁখি ও তার স্বামী মিনহাজ বিন নাসির নিহত হন। চলতি মার্চ মাসের ৩ তারিখে তাদের বিয়ে হয়। মিনহাজের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামে। নবদম্পত্তি বিয়ের পর উঠেছিল ঢাকার ধানমন্ডির একটি নতুন ফ্লাটে। আঁখিমণিদের বসতবাড়ি রুপসদীর দক্ষিণপাড়ার সরকার বাড়ি।
রামপুরায় বসবাসরত পেশকার মিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাদের মেয়ে মেধাবী আঁখিমণি মাস্টার্স পাস করে পরিবারের সম্মতিতে গত ৩ মার্চ বেশ ধূমধাম করে বিয়ে হয়। মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী হিমালয়কন্যার দেশ নেপালে যাওয়ার জন্য গত সপ্তাহে টিকিট বুকিং দেয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া মৃতদের তালিকার ১৮ ও ১৯ নং সিরিয়ালে রয়েছে এই হতভাগ্যদের নামের তালিকা।
গতকাল বেলা ১১টায় এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে আসে পরিবারের সবাই। যাবার সময় কি এক অজানা আশঙ্কায় আঁখিমণি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন। সেই অজানা আশঙ্কাই সত্যি হলো। বিমান দুর্ঘটনায় চিরবিদায় নিলেন তারা। আঁখি ও তার স্বামী মিনহাজের লাশ এখনো নেপালের মর্গে আছে।
একটি সূত্রে জানা গেছে,আঁখিমণির বাবা এখন মেয়ের শোকে পাগলপ্রায়। মা-র অবস্থাও তাই। তারপরও মেয়ের টানে গতকাল সকাল নেপালের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন তিনি। তার মা বা পরিবারের কেউ ফোনে কথা বলতে চাইছেন না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.