৬১ বছরে ১৭ বিমান দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সীমানায় এ যাবৎ ১৭ বার বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৪টি ঘটেছে দেশ স্বাধীনের পরে। আর তিনটি ঘটনা ঘটেছে ১৯৫৭ সাল থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত। উইকিপিডিয়া সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে পিআইএ ডগলাস ডিসি৩ বিমান চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দর যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগরে চরলক্ষ্মী দ্বীপের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানের চারজন ক্রুসহ ২০ আরোহীর সবাই নিহত হন। ১৯৬৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিআইএ ফ্লাইট ১৭ ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানের তিনজন ক্রুসহ মাত্র একজন বাদে ২১ আরোহীর সবাই নিহত হন।
১৯৭০ সালের ২ ডিসেম্বর জার্মানির হ্যামবুর্গ থেকে ছেড়ে আসা ত্রাণবাহী একটি বিমান ঢাকার তেজগাঁওয়ের কাছে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে সুইস রেড ক্রসের ২৭.৫ টন শিশুখাদ্য ছিল। কার্গো বিমানটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে আসছিল। তেজগাঁও বিমানবন্দরে নামার সময় চালক বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ডিসি৩ বিমান প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন পরিচালনার সময় ঢাকার কাছে বিধ্বস্ত হয়। এতে পাঁচ আরোহীর সবাই নিহত হন।
১৯৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাই থেকে টোকিওর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া জাপান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৪৭২ উড্ডয়নের অল্প সময় পরেই পাঁচজন জাপানি লাল সেনা কর্তৃক অপহৃত হয় এবং বিমানটিকে জোর করে তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। সন্ত্রাসীরা ছয় মিলিয়ন ডলার এবং জাপানি জেল থেকে ছয়জন জেআর এ সন্ত্রাসীর মুক্তি দাবি করে।
১৯৭৯ সালের ১৮ নভেম্বর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফকার এফ ২৭-২০০ বিধ্বস্ত হয়। ১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফকার এফ ২৭-৬০০ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জলাভূমিতে বিধ্বস্ত হয়। বিমানের চালক ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা বাণিজ্যিক বিমানচালক কানিজ ফাতেমা রোকসানা। এটি বাংলাদেশের মাটিতে ভয়াবহতম বিমান দুর্ঘটনা। এতে ৪৯ জন নিহত হন।
১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বিজি৬০৯ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর যাওয়ার পথে ঘন কুয়াশার কারণে ধানক্ষেতে বিধ্বস্ত হয়। এতে ১৭ জন আহত হন।
১৯৯৮ সালের ২৭ জুন ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা এয়ার পারাবাত ফ্লাইট কারিগরি ত্রুটির কারণে সাভারের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সেসনা ১৫০ বিমান পারাবাত ফ্লাইং একাডেমির দু’জন প্রশিক্ষণার্থী বৈমানিকসহ বিধ্বস্ত হয়।
২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি৬০১ বিমানটি ৭৯ জন যাত্রী ও চারজন ক্রুসহ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর যাওয়ার পথে ফকার এফ২৮-৪০০০ সিলেটের ভেজা রানওয়েতে পিছলে খাদে পড়ে যায়। এতে দু’জন আহত হন।
২০০৫ সালের ৮ জুন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর অদূরে বিধ্বস্ত হয়। এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হন।
২০০৫ সালের ১ জুলাই দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বিমানের ফ্লাইট বিজি০৪৮ ভারী বৃষ্টির কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২৩ নম্বর রানওয়েতে অবতরণের সময় পিছলে যায়। তাতে আগুন লেগে যায়। ডান পাখা থেকে ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানে থাকা ২০১ জন যাত্রী ও ১০ জন ক্রুর মধ্যে ১০ জন আহত হন।
২০০৮ সালের ২৫ মে মদিনা থেকে আসা সৌদি ফ্লাইট ৮১০, বোয়িং ৭৪৭-৩০০ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর এর ৩ নম্বর ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল একটি রাজকীয় থাই বিমানবাহিনীর এটিআর ৭২-২১২ বিমান জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে দু’জন যাত্রী সামান্য আহত হন।
২০১২ সালের ১৩ আগস্ট ১০ জন যাত্রী নিয়ে একটি এটিআর ৭২-২১২ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ৫৪৬ ঢাকা থেকে যশোরে যাওয়ার পথে ভূমি থেকে ৯০০০ মিটার উচ্চতায় উচ্চ চাপের জন্য সহকারী চালকের সামনের কাচ ভেঙে যায়। চালক বিমানটিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। এতে সহকারী চালকের চোখে আঘাত লাগে।
২০১৫ সালের ১৩ মে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এমআই ১৭ হেলিকপ্টার প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয় এবং আগুন ধরে যায়। তিন আরোহীর প্রত্যেকেই মারাত্মক আহত হন।
২০১৫ সালের ২৯ জুন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ ৭-এমবি প্রশিক্ষণ বিমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর পতেঙ্গা সৈকত থেকে ছয় মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। বিমানচালক ফ্লাইট লে. রুম্মান তাহমিদ নিখোঁজ হন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.