জিয়া পরিষদের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ  :  নয়া দিগন্ত
জিয়া পরিষদের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ : নয়া দিগন্ত
জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা

খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বে সরকার কৌশল করছে : মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গণতন্ত্রের লেবাসে একদলীয় কর্তৃত্ববাদ চলছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, নি¤œ আদালতের মাধ্যমে সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বে কলাকৌশল করছে। কুমিল্লার একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই কথা বলেন। মওদুদ আহমদ বলেন, মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও জাল নথি দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সাজা দেয়া হয়েছে। যারা এই কাজ করেছে তারা ভেবেছে যে আবারো একদলীয় নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা ভুল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আর ২০১৮ সাল কিন্তু এক বছর নয়। অনেক ঘটনা ঘটেছে। নদীতে অনেক পানি গড়িয়েছে। গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
জিয়া পরিষদের উদ্যোগে ‘মাদার অব ডেমোক্র্যাসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব সাজানো, মিথ্যা মামলার রাজনৈতিক তাৎপর্য ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। জিয়া পরিষদের সভাপতি কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহিল মাসুদের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হাসান তালুকদার। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: আবদুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব ড. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক আবুল কালাম আযাদ, সহকারী মহাসচিব শহিদুল ইসলাম শহিদ প্রমুখ।
খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নি¤œ আদালত কিন্তু এখন সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নাই, এটি চলে গেছে নির্বাহী বিভাগের অধীনে। এই যে দেখেন কুমিল্লার মামলায় ওয়ারেন্ট। এতদিন বলছে ওয়ারেন্ট ইস্যু নেই। এখন যেহেতু উচ্চ আদালতে উনি জামিন পেয়ে গেছেন এখন ওয়ারেন্ট পাঠিয়ে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য- ২৮ মার্চ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া যেন জেলখানায় থাকে তার ব্যবস্থা করা। এটা হীন্মন্যতা ছাড়া আর কিছু না। কিন্তু লাভ হবে না তাতে। আমরা মনে করি, আপনারা যতই কলাকৌশল করেন না কেনো, যতই ছল-চাতুরি করেন না কেন, যতই ষড়যন্ত্র করেন না কেন বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আমাদের কাছে আবার ফিরে আসবেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, উনার বিরুদ্ধে এখন যত মামলা আছে সব স্থগিত আছে, নিয়ন্ত্রণে আছে। ৪টা মামলা- দু’টি ঢাকায়, একটা নড়াইল ও একটা কুমিল্লায়। একটা কথা আমি বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি একদিনের জন্য বিলম্বিত হলে তার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ বাড়বে বাংলাদেশে। বিলম্ব করতে চান? করেন। আমার নেত্রীর কষ্ট হবে ঠিকই কিন্তু তার জনপ্রিয়তা আপনারা ঠেকাতে পারবেন না।
উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের প্রসঙ্গে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম জিয়ার জামিন হয়ে গেল। আমরা আশা করেছিলাম যে, উনি আজকে অথবা কালকের মধ্যে আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন। তো ঠিক আছে তাদের অধিকার আছে আপিল করার। তারা আজকে আপিল করতে গিয়েছিলেন, তারা সময় চেয়েছেন। আমরা বলেছি কালকে ফুল বেঞ্চে শুনানি হবে। কালকে (আজ বুধবার) ইনশাল্লাহ এক নম্বরে থাকবে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টা। আমরা মনে করি এই যে বিচারিক প্রক্রিয়া, এই প্রক্রিয়ায় উচ্চতম আদালত হাইকোর্টের জামিনের রায় বহাল রাখবেন- এটাতে আমাদের মনে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সন্দেহ হলো এ যে ১৫ দিন বিলম্ব হলো। এটা তো আদালত করেনি, সরকার করেছে, সরকারি কর্মচারীরা করেছে যারা এটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তাকে সাথে নিয়েই আমরা নির্বাচন করব এবং সেই নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার উঠবে, দেশের মানুষ যখন উনার পক্ষে মাঠে নেমে যাবে তখন বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাবে। আপনারা ধৈর্য ধরেন, কেউ হতাশ হবেন না।
ক্ষমতাসীনরা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার করছে মন্তব্য করছে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে। কারণ তাদের ভয়, যদি নির্বাচনে তারা না জিতে। এই সরকারের সর্বত্রই দুর্নীতি। উন্নয়নের কথা বলে দেশের অর্থনীতি ফতুর করে দিয়েছে। কোনো তদারকি নেই। প্রত্যেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি সীমা ছাড়িয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ একদিন এসবের হিসাব নেবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিবাজদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
দেশে বর্তমানে কোনো সরকার আছে কিনা এমন প্রশ্ন রেখে মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের যে সরকার আছে তার কোনো জবাবদিহিতা নেই। জনগণের বিরোধী দল নেই। তবে সব মানুষের ক্ষোভ আছে। তারা একবার সুযোগ পেলে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে অবস্থা পাল্টে দেবে।
অধ্যাপক এস এম হাসান তালুকদার বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ও রায় রাজনৈতিক প্রভাবদুষ্ট। এ নিয়ে জনমনে যৌক্তিক প্রশ্ন এবং সংশয় রয়েছে। কেননা খালেদা জিয়া তার স্বামীর নামে করা ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ করবেন এমনটি দেশের মানুষ মোটেও বিশ্বাস করে না। তারেক রহমানও বাবার নামে ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ করবেন এমনটি কাল্পনিক। আসলে তাদের রাজনীতি থেকে মাইনাস করার লক্ষ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর মাধ্যমে আওয়ামী জোটের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। বিএনপি জোট ঐক্যবদ্ধ থেকে কৌশলে সামনে এগোতে পারলে আগামী নির্বাচনে তাদের বিজয় অনিবার্য।
ডা: আবদুল কুদ্দুস বলেন, সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্চে সেভাবে চলতে পারে না। সরকার যদি এত উন্নয়ন করে থাকে তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভয় কিসের?
সভাপতির বক্তব্যে কবীর মুরাদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমন বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা না করলে আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম হতো না। অন্যান্য রাজনৈতিক দল রাজনীতি করতে পারতো না। আজকে গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা তার মুক্তি চাই।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.