বাংলা চ্যানেল সাঁতারে কিশোরী থেকে বর্ষীয়ান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিজানুর রহমান। বয়স ৬৮ বছর। রাশেদা খাতুন। বয়স মাত্র ১৫। আত্মীয়-স্বজন কিংবা কোনোকালেই দেখেননি একে অপরকে। তবে একটা জায়গায় তারা এক। উভয়েই পাড়ি দিতে প্রস্তুত বাংলা চ্যানেল (টেকনাফ ফিশারিজ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ফেরিঘাট পর্যন্ত ১৬.১ কিলোমিটার পথ)। এ পর্যন্ত ১৬ জন সাঁতারু পাড়ি দিয়েছেন বাংলা চ্যানেল। ১৯ মার্চ সকাল ৯টায় এবারই সর্বাধিক ৩২ জন সাঁতারু বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবেন।
এক সময় মাদরাসায় শিক্ষকতা করা মিজানুর রহমান এখনো দিনে পাঁচ ঘণ্টা সাঁতরাতে পারেন। বয়সকে হার মানিয়ে এই পথকে পাড়ি দেবেন মিজানুর রহমান। তার কথায়, ‘এখনো আমি আফতাব নগরে শিশুদের সাঁতার শেখাই। দুই দিন আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের পুকুরে টানা পাঁচ ঘণ্টা সাঁতার কেটেছি। কোনো সমস্যাই হয়নি। এক সময় আমি ভোজনবিলাসী ছিলাম। ওজন ছিল প্রায় ১০১ কেজি। ডাক্তারের পরামর্শে খাবারে পরিবর্তন আনি। ইয়োগা করি। এক দিন পরপরই রোজা রেখেই সাঁতার কাটি। এখন ওজন ৮৪ কেজি। শরীরও ফিট। এবার পাড়ি দেব বাংলা চ্যানেল।’
অন্য দিকে ২০০৩ সালে জন্ম হলেও মাত্র ছয় বছর বয়সেই সাঁতার শিখেন বগুড়ার তাপসী রাবেয়া বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রাশেদা খাতুন। দাদার বয়সী মিজানুর রহমানের সাথে পাল্লা দেবেন ১৫ বছর বয়সী রাশেদা। ২০১৪ সালে আনসারের খাতায় নাম লিখিয়ে এখন পর্যন্ত ১০০ ও ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও ব্যাকস্ট্রোকে ১৯টি স্বর্ণপদক জয় করেছেন। এর আগে কখনো সমুদ্র দেখেননি রাশেদা। পুলে এবং পুকুরে সাঁতার কাটা আর সমুদ্রে সাঁতার কাটায় কোনো পার্থক্য দেখছেন না এই কিশোরি, ‘সাঁতারু হিসেবে ভয় পেলে কী চলে। এখন যখন চার ঘণ্টা সাঁতার কাটতে পারি, তাহলে ওখানেও পারব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.