বিয়ে কি ঠেকাতে পারবেন নাঈমা?

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

অভাবের সংসার। বাবা আরেক বিয়ে করে আলাদা থাকেন। খরচ দেন না। মা মঞ্জুয়ারা বেগম জুট মিলের শ্রমিক। বড় মেয়ের বিয়ের পর বাকি দুই মেয়ে আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন চলে মঞ্জুয়ারার। এই পরিবারেরই মেয়ে নাঈমা খাতুন। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই নাঈমাকে বিয়ে দেয়ার চাপ নিকটাত্মীয় ও পাড়া-প্রতিবেশীর। তিন বছর ধরে খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত ১৯ বছর বয়সী নাঈমা। বাংলাদেশ যুব গেমসে অংশ নিতে ঢাকায় আসার আগে তার প্রতি পরিবারের অন্যদের ঘোষণা ছিল, এবার ¯¦র্ণ জিততে না পারলে বাড়িতে ফেরার পরপরই বিয়ে দিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু তার পণ এখনই বিয়ে নয়। খেলাধুলা করব আরো কিছু বছর। এজন্য সাফল্য পেতে হবে যুব গেমসে। যা তাকে চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারে। অবশেষে সেই কাক্সিক্ষত ¯¦র্ণই পেলেন নাঈমা। কুস্তির ৪০ কেজি ওজন শ্রেণীতে খুলনার আঁখিকে হারিয়ে সেরা হলেন রাজশাহীর এই মেয়ে। এরপরই তার আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ, এখন আর কেউ আমাকে বিয়ে দিতে পারবে না। যেহেতু ¯¦র্ণ জিতেছি সুতরাং চাকরি হবে আমার। মাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারব। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী আমার বায়োডাটা নিয়েছে।
নাঈমা যেন কাল ¯¦র্ণ জিততে পারেন এ জন্য রোজা রেখেছেন তার মা ও দুই বোন। তথ্যটি দেন নাঈমাই। এরপর ¯¦র্ণ জিতেই সবার আগে খবর দেন মাকে। সাথে সেই সমালোচকদের জানাতে বলেন তার সাফল্যের কথাটি।
কিছু দিন আগেও বিয়ের চেষ্টা হয়েছিল নাঈমার। দাদী বিয়ের ব্যবস্থা করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু মায়ের বাধায় হয়নি সে বিয়ে। মা মঞ্জুয়ারাও চান তার মেয়ে খেলাধুলা করুক। অথচ তেমন কোনো সাফল্যের সূত্র ধরে চাকরি না হওয়ায় চাপ বাড়ছিলই বিয়ের। পরিবারসহ প্রতিবেশীদের একটাই মন্তব্য ছিলÑ যেহেতু কোনো সাফল্য পাচ্ছে না নাঈমা, সুতরাং খেলাধুলা করে লাভ নেই। বিয়ে দিয়ে দিতে হবে তাকে। তা না হলে বিপথে চলে যাবে সে। তাই এবারের যুব গেমসটি ছিল নাঈমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তিন বছর আগে ফরমান আলীর হাত ধরে কারাতেতে আসা নাঈমার। পরে কোচ বাবুর কল্যাণে কুস্তি আসা। এবারের জাতীয় কুস্তিতে জিতছেন ব্রোঞ্জ। এর আগে গত বছর স্বাধীনতা কাপ কারাতেতে ৪০ কেজি ওজন শ্রেণীতে ¯¦র্ণ পেয়েছিলেন রাজশাহী পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের এই ছাত্রী। বড় আসরে প্রথম হওয়া কালই শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সের কুস্তি ম্যাটে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.