অভিমত : প্রশ্নফাঁস ও মাদক

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন


গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম কলামে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ‘প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে দেয়া উচিত’ মর্মে নিউজ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি যথাযথ গুরুত্বপূর্ণ কথাই বলেছেন। কিন্তু পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠা উল্টাতেই দেখলাম আরো তিন গুণ বড় ফন্টে এবং লাল শেড দিয়ে লেখা হয়েছে ‘অলিগলি হাটে-বাজারে হাত বাড়ালেই মাদক’ শিরোনামের নিউজ। বিষয়টি কত উদ্বেগের বিষয় যে, হাত বাড়ালেই মাদক! যা বর্তমানে আমার কৌতূহল জাগালÑ এটাকে যদি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেয়া হয় তাহলে কোনটি প্রাধান্য পাবে? দুটোই দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আমার তো মনে হয়Ñ মাদকের অবস্থা এমন যে, দেশের নি¤েœর নি¤œস্থল থেকে সর্বোচ্চ অফিসেও মাদকের থাবা পৌঁছে গেছে। আর মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বিশাল। প্রতিদিন কোনো না কোনো পত্রিকার কলামে মাদকের ছোঁয়া আছেই। মাদকের কলাম ছাড়া যেন পত্রিকা অচল। মাদক নিয়ন্ত্রণে অধিদফতরকে কাজ করতে হয়েছে। মাদকের ব্যবহারকারী শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই। মাদক পরিবহনে উচ্চবিত্তদের গাড়িসহ পাওয়া গেছে। মাদক নির্মূলের জন্য পাড়ায় পাড়ায় কমিটি করা হয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। মাদকের ছোবলে কত ভদ্র, শিক্ষিত পরিবার ধ্বংসের মুখে। কেউই বলতে পারবেন না নিজ পরিবার এমন ক্ষতি থেকে মুক্ত আছে বা থাকবে। সর্বোপরি মাদক দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
অথচ প্রশ্নফাঁসে এগুলোর কোনোটিই করতে হয়নি এখনো। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে এখনি পদক্ষেপে নিলে সফল হওয়া সম্ভব শতভাগ। শিক্ষাঙ্গনের কারণে অল্পতেই এ বিষয় নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা বেশি; কিন্তু মাদকের বিস্তার এত বেশি যে, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি করতে হচ্ছে আর মামলা, কারাগার তো আছেই।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে বিনয়ের সাথে জানার আগ্রহÑ প্রশ্ন ফাঁসকারী এসব লোককে যদি ফায়ারিং স্কোয়াডে দিতে হয়, মাদকের জন্য নয় কেন?

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.