গৌতার হারাস্তায় গণহত্যার মুখে হাজার হাজার সিরীয়

মিডলইস্ট আই

অবরুদ্ধ পূর্ব গৌতার হারাস্তার সাথে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকারি বাহিনী। সেখানে বসবাসরত সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। মানবাধিকার কর্মীরা একথা জানিয়েছেন। সিরীয় সেনাবাহিনী রোববার বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত ছিটমহলের সাথে হারাস্তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলার পর সেখানে বসবাসকারী ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ গণহত্যার মুখে পড়েছে বলে গত সোমবার মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সিরীয় মানবাধিকার কর্মী ইব্রাহীম আল ফাওয়াল বলেন, কোনো ধরনের খাদ্য ও অন্যান্য সরবরাহহীন হারাস্তার সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবারের বিষয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। সব টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে এবং আমরা রোববার থেকে সেখানকার কারো সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছি না।
সাত বছর আগে সিরিয়ায় সঙ্ঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ১১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে সোমবার সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানানোর পর এই উদ্বেগ-আতঙ্ক প্রকাশ করা হয়।
তিন সপ্তাহ আগে রাজধানী দামেস্কের কাছে বিদ্রোহীদের বৃহত্তম শক্তঘাঁটি পূর্ব গৌতায় হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত ১১ শ’রও বেশি অসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, সেখানে সরকারের জঙ্গিবিমান, কম্ব্যাট হেলিকপ্টার ও কামান অবিরাম হামলার মধ্যে কয়েকটি ফ্রন্টে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছে। সরকারি বাহিনী শনিবার মিসরাবা শহরটি দখল করার পর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার গভীরে মুদাইরার দিকে অগ্রসর হয়। এতে দোমা ও হারাস্তার মতো বড় দুটি শহর অন্যান্য এলাকার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পূর্ব গৌতার বিদ্রোহী গ্রুপগুলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছে। শনিবার ফ্রি সিরিয়ান আর্মির উপদলগুলো এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আত্মসমর্পণ অথবা আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পূর্ব গৌতায় চার লাখ অসামরিক লোকজন বসবাস করে। অবিরাম বিমান ও কামান হামলা থেকে বাঁচতে তারা বাড়ির ভীতের নিচে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকে অঞ্চলটির আরো গভীরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.