পক্ষত্যাগী গুপ্তচরের ওপর হামলা

সম্ভবত রাশিয়া জড়িত : থেরেসা এ মন্তব্য উসকানিমূলক : মস্কো

বিবিসি

পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টার পেছনে ‘সম্ভবত মস্কোই জড়িত’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতর। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, হামলার পেছনে রাশিয়া আছে, ব্রিটেনের এ ধারণায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আছে। তবে থেরেসা মের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এটিকে উসকানিমূলক বলে মন্তব্য করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া বিবৃতিতে থেরেসা মে বলেন, স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর যে নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাশিয়ায় বানানো সামরিক ঘরানার। মঙ্গলবারের মধ্যে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিক্রিয়া’ না পেলে ব্রিটেন পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচরের ওপর হামলার ঘটনাকে মস্কোর ‘বেআইনি বলপ্রয়োগ’ হিসেবে বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছেন মে। গত ৪ মার্চ ইংল্যান্ডে সলসবেরির উইল্টশায়ারে একটি পার্কের বেঞ্চে পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের ওপর নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পরে পুলিশ নিশ্চিত করে। বাবা ও মেয়ের ওপর বিষাক্ত রাসায়নিক হামলায় ব্যবহৃত নার্ভ এজেন্টটি শনাক্ত করা হয়েছে, এটি নভিচক নামে পরিচিত বলে জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘হতে পারে এটি (হামলা) আমাদের দেশের বিরুদ্ধে রুশ সরকারের সরাসরি পদক্ষেপ, কিংবা হতে পারে তারা (রাশিয়া সরকার) ক্ষতিকর ও ভয়াবহ মাত্রায় ধ্বংসাত্মক এ নার্ভ এজেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যার ফলে এটি অন্য কারো হাতে চলে গেছে।’ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন এ নিয়ে যুক্তরাজ্যে নিয়োজিত রুশ রাষ্ট্রদূতের সাথে কথা বলেছেন। মস্কোকে নভিচক কর্মসূচির আদ্যোপান্ত এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিকেল উইপনসের কাছে দিতে হবে বলে বরিস রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, ভাষ্য কনজারভেটিভ দল প্রধানের।
সাবেক গুপ্তচরের ওপর রাসায়নিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্রিটেন বিস্তৃত পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে মে জানিয়েছেন। রাশিয়ার কাছ থেকে ‘পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা’ না পেলে বুধবারই হাউজ অব কমন্স থেকে নিষেধাজ্ঞাসহ ওই পাল্টা পদক্ষেপগুলো ঘোষিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.