লাউড়েরগড় সুনামগঞ্জ সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় : নয়া দিগন্ত
লাউড়েরগড় সুনামগঞ্জ সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় : নয়া দিগন্ত

লাউড়েরগড়-সুনামগঞ্জ সড়কে বড় বড় গর্ত : ৫ লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ লাউড়েরগড়-সুনামগঞ্জ সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দু’টি উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক জনসাধারণ। সংস্কার না হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে দু’টি উপজেলাবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের আব্দুর জহুর সেতু থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ, ধনপুর মাছিমপুর, পুরান লাউড় সড়কে কয়েক বছর ধরে সড়কের নামমাত্র সংস্কার করায় ২০টি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এর ফলে প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় বাজার থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার এটিই একমাত্র সড়ক। এই সড়ক দিয়ে সারা বছর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা দিয়ে জেলা সদরের সাথে প্রতিদিন যাতায়াত করছে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ পাঁচ লক্ষাধিক জনসাধারণ। সম্প্রতি এ সড়কের চালবন পয়েন্ট থেকে পলাশ, ধনপুর থেকে মাছিমপুর হয়ে লাউড়েরগড় বাজার সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের দুই পাশের ছোট ছোট কালভাটের সংযোগের মাটি সরে গেছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুঁকি মোটরসাইকেল, সিএনজি, বাস, প্রাইভেট কার, টমটমে যাত্রী ও স্থানীয় জনসাধারণ চলাচল করছে। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী টমটম, সিএনজি, লাইটেসের চালকের বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় পর্যটন সমৃদ্ধ টাংগুয়ার হাওর থাকায় দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক এবং পাশের জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের জনসাধারণ বেড়াতে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহনে আসছে। এ সড়কে ট্রাক, হোন্ডা, সিএনজি, টমটমসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের পরিমাণ দিন দিন বেড়েছে। এই ভাঙ্গাচুরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির অনেক ক্ষতি হয় আর যাত্রীরাও কষ্ট করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, এই সড়ক দিয়ে যাত্রী পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মালামাল সড়ক পথে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসছে আর এখানকার বালু, পাথর নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সড়ক ভাঙ্গাচুরা থাকার কারণে গাড়ি আসতে চায় না। ফলে বেশি টাকা বাধ্য হয়ে দিতে হয়। ফলে পরিবহনে খরচ বেড়ে যায়। এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং বেড়াতে আসা পর্যটকেরা বলেন, এই এলাকার সাথে জেলা সদরের যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের লাউড়েরগড় থেকে পলাশ ইউনিয়নের হয়ে সুনামগঞ্জ সদর পর্যন্ত সড়কের এই বেহাল অবস্থা খুবে দুঃখজনক। এই ভাঙ্গা সড়কের চলতে গিয়ে শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, সময় বেশি লাগে আর ভাড়াও বেশি দিতে হয়। অদ্বৈত্য প্রভু জন্মধামের পরিচালনা কমিটির রাজারগাঁও (লাউড়েরগড় নবগ্রাম) সভাপতি করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় ও বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা সবাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। সড়কটি ভালোভাবে মেরামত করা খুবই প্রয়োজন। এই অবস্থায় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইড) আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা বিন্নাকুলি থেকে লাউড়েরগড় পর্যন্ত সড়কের কাজ করছি। আর লাউড়েরগড় থেকে বিশ্বম্বরপুর উপজেলার পূর্বে আমাদের অংশে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সময়োপযোগী সংস্কার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ না নেয়ায় উপজেলাবাসী এবং এই উপজেলায় আসা সর্বস্তরের জনসাধারণ খুব কষ্টে আছে। এখন দুই ধর্মেও দু’টি মেলাও এসেছে দুর্ভোগ পোহাবে আগতরা। আমি এই বিষয়টি নিয়ে সবার সাথে কথা বলব।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.