ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় গাড়ি পার্কিং জোন এখন রিকশা স্ট্যান্ড  : নয়া দিগন্ত
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় গাড়ি পার্কিং জোন এখন রিকশা স্ট্যান্ড : নয়া দিগন্ত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বাড়ছে যানজট

রনবীর ঘোষ কিংকর চান্দিনা (কুমিল্লা)

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে রূপান্তরের পাশাপাশি প্রতিটি স্টেশনে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য নির্ধারিত জোন রাখা হলেও সেগুলো কোনো কাজে আসছে না। নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং না করে মহাসড়কের ওপরেই গাড়ি পার্কিং করে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঘটছে দুর্ঘটনা। গাড়ি থামানোর নির্ধারিত জোনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। আবার কোনো কোনো পার্কিং স্থলে রিকশা-ভ্যান-সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় সেখানে পায়ে হেঁটে চলারও সুযোগ নেই।
অপর দিকে গাড়ি পার্কিং স্থলে দু’টি গাড়ির ওভারটকিং বা ক্রসিং করতে অসুবিধা হওয়ায় বেশিরভাগ গাড়ি পার্কিং জোনে প্রবেশ করে না। পার্কিং জোনের পাশে গাড়ির টিকিট কাউন্টার না বসে যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার বসায় নির্ধারিত পার্কিং স্থলে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার স্টেশন এলাকায় চট্টগ্রামমুখী পার্কিং স্থলটি ব্যবহার করা হলেও ঢাকামুখী পার্কিং স্থলটি কোনো কাজেই আসছে না। বেশিরভাগ গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে মহাসড়কের ওপরে।
স্থানীয়দের অভিমত, এ অংশের পার্কিং জোনটি অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করার কারণে বেশিরভাগ গাড়ি পার্কিং জোনে পার্কিং না করে লাকসাম রোডের মোড়ে পার্কিং করছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঢাকামুখী পার্কিং জোনটি যদি লাকসাম রোডের পশ্চিমাংশে রাখা হতো তাহলে জোনটির যথাযথ ব্যবহার হতো।
ময়নামতি সেনানিবাস স্টেশন এলাকার দু’টি পার্কিং জোনই পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় গাড়ি পার্কিং নির্ধারিত স্থানে হলেও যাত্রী ওঠা-নামা করা হচ্ছে মহাসড়কের ওপরেই। মহাসড়কের নিমসার বাজারের পার্কিং জোন ও যাত্রী ছাউনি অপরিকল্পিত বলে জানান গাড়িচালক ও যাত্রীরা। উভয় পাশের গাড়ি পার্কিং জোন দখল করে নিয়েছে নিমসারের কাঁচা বাজার।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, মানুষ সামনের দিকে এগোতে চায়; কিন্তু মহাসড়ক নির্মাণে যাত্রীদের ওঠা-নামার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে প্রতিটি স্টেশনের পেছনে। এ স্টেশন এলাকা থেকে যেসব যাত্রী চট্টগ্রাম বা কুমিল্লার দিকে যাবে তারা স্টেশনের পূর্ব পাশে অবস্থান নেবে এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু এখানে যাত্রী ছাউনি ও গাড়ি পাকিংয়ের জন্য নির্ধারিত যে স্থান রাখা হয়েছে সেটা পেছনের অংশে স্টেশনের পশ্চিম পাশে। আবার ঢাকামুখী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত জোন ও গাড়ি পার্কিং জোনটি যথাযথ স্থানে করা হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায় রাস্তার ওপরেই গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে।
চান্দিনা-বাগুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার উভয় পাশের পার্কিং জোনই অপরিকল্পিত। ঢাকাগামী গাড়ি পার্কিং জোনে রিকশা ও সিএনজিস্ট্যান্ড। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। আর নির্ধারিত পার্কিং জোনের এক প্রান্তে স্থানীয় পরিবহন এবং অপরপ্রান্তে দূরপাল্লার পরিবহনগুলো অবস্থান নেয়। এ ছাড়া টিকিট কাউন্টারগুলোও পার্কিং জোনের কাছাকাছি না থেকে যত্রতত্র থাকায় ওই পার্কিং জোনে কোনো গাড়িই প্রবেশ করে না। অপর দিকে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামগামী পার্কিং জোনটি করা হয়েছে স্টেশন এলাকার পেছনের অংশে। যার ফলে সেখানে কোনো গাড়ি পাকিং হচ্ছে না। একই রকম অবস্থা দাউদকান্দি উপজেলার স্ট্যান্ডগুলোতেও।
এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত আলী জানান, হাইওয়ের পাশে কোনো পার্কিং জোন নেই। স্টেশন এলাকায় শুধু যাত্রী ওঠানো ও নামানোর জন্য নির্ধারিত স্থান দেয়া হয়েছে; কিন্তু সেখানে রিকশা পার্কিং বা দোকানপাট কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা ও দাউদকান্দি স্টেশন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে জেলা পুলিশ। সেগুলো হাইওয়ে পুলিশ নিয়ন্ত্রিত নয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.