তেঁতুলিয়ার মেসার্স লিপি হাসকিং মিল চাতালে চলছে পাথরের ব্যবসা : নয়া দিগন্ত
তেঁতুলিয়ার মেসার্স লিপি হাসকিং মিল চাতালে চলছে পাথরের ব্যবসা : নয়া দিগন্ত

তেঁতুলিয়ায় ধানের মিল চাতালে পাথরের ব্যবসা

এম এ বাসেত তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়)

তেঁতুলিয়া উপজেলার ৩৪টি চালকল মালিকদের চলছে দুর্দিন। মিল চাতালে ধানের বদলে চলছে পাথরের ব্যবসা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বরাদ্দের চাল সরবরাহ করতে না পারায় বেশির ভাগ চালকল মালিক খাদ্য বিভাগের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
উপজেলার তেঁতুলিয়া খাদ্যগুদাম ও ভজনপুর খাদ্যগুদামের অধীন চালকলের সংখ্যা ৩৪টি। এর মধ্যে তেঁতুলিয়া খাদ্যগুদামের অধীনে ২২টি ও ভজনপুর খাদ্যগুদামের অধীনে ১২টি চালকল রয়েছে। তবে বিগত অর্থবছরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেঁতুলিয়া খাদ্যগুদামে ধান-চাল সরবরাহ করে জবেদা হাসকিং মিল ও খন্দকার হাসকিং মিল এবং ভজনপুর খাদ্যগুদামে সরবরাহ করে মেসার্স হক ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স হাসান ইন্ডাস্ট্রিজ, জাহাঙ্গীর হাসকিং মিল ও রহিম হাসকিং মিল। এ ছাড়া বাকি তেঁতুলিয়া খাদ্যগুদামের অধীনে ২০টি ও ভজনপুর খাদ্যগুদামের অধীনে আটটি চালকল সরকারের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে। সঠিক সময়ে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্য সরবরাহ করতে না পারায় অনেক চালকল মালিক ধান-চালের ব্যবসা গুঁটিয়ে পাথর ও অন্যান্য ব্যবসা শুরু করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক চালকল মালিকের অভিযোগ, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান-চাল সরবরাহ করার পরও কোনো সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে অনেকে চালকল ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন।
মেসার্স লিলি হাসকিং মিলের স্বত্বাধিকারী সাইনুল হক বলেন, সরকার মিল মালিকদের ধান-চাল সরবরাহের যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে খোলাবাজারে চালের দরের সাথে তার কোনো মিল নেই। ফলে এই সরকারের আমলে মিল চাতালের ব্যবসা হবে না মনে করেই পাথরের ব্যবসা শুরু করেছি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান-চাল সরবরাহে কঠোর নির্দেশনানুযায়ী বেশির ভাগ চালকল মালিক সঠিক সময়ে ধান-চাল সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে অনেকে মিল চাতালে ধান-চালের ব্যবসার বদলে অন্য ব্যবসা শুরু করেছেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হৃষিকেশ দেবশর্মা জানান, উপজেলার ৩৪টি চালকল মালিকের মধ্যে প্রায় ছয়টি চালকলের মালিক সরকারের নির্দেশনানুয়ায়ী ধান-চাল সরবরাহ করছেন। এ ছাড়া ২২টি চালকল মালিক সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ধান-চাল সরবরাহ করতে না পারায় কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.