ভূরুঙ্গামারীতে চিকিৎসক সঙ্কটে ভোগান্তিতে দরিদ্র মানুষ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর চারটি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের সব ক’টি দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ। বন্ধ স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলো হলো শিলখ্্্ুঁড়ী ইউনিয়নের শিলখুঁড়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র, চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চর ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র, বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের সোনাহাট স্বাস্থ্য ও পরবিার কল্যাণকেন্দ্র এবং বলদিয়া ইউনিয়নের শাহীবাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র। দীর্ঘ দিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে শিলখুঁড়ী, চর ভূরুঙ্গামারী, বঙ্গ সোনাহাট ও বলদিয়া ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য ১৫-২০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই তাদের একমাত্র ভরসা।
শিলখ্ুঁড়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ। মূল ফটকের উভয় পাশে আবর্জনার স্তূপ। দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নেয়া দায়। চর ভূরুঙ্গামারী, বঙ্গ সোনাহাট ও শাহীবাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে সেগুলোতেও তালা ঝুলতে দেখা যায়। সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি বেদখলের পথে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য একজন করে মেডিক্যাল অফিসার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহকারীর পদ রয়েছে। বদলি ও অবসরজনিত কারণে প্রায় এক বছর ধরে শিলখূঁড়ি, সোনাহাট ও শাহীবাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র জনবলশূন্য রয়েছে। চর ভুরুঙ্গামারীতে উপসহকারী কমিউনিটি অফিসার মেডিক্যাল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। শিলখুঁড়ী ইউনিয়নের আবু শামা, চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের মইনুল হক, বলদিয়া ইউনিয়নের শুক্কুর আলী ও রফিকুল জানান, বড় ডাক্তার না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধই থাকে। বাকি যারা আছেন তারা সপ্তাহে দুই দিন এক-দুই ঘণ্টার জন্য হাসপাতাল খোলেন। দুপুরের আগেই বন্ধ করে চলে যান। এ অবস্থায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ হাতুড়ে ডাক্তারদের দ্বারস্থ হয়ে উচ্চমূল্যে নি¤œমানের ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২০ রকমের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। অধিকাংশ সময় কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় সরবরাহকৃত ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিতদের। স্বাস্থ্যকেন্দ্র সচল রাখার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। শিলখুঁড়ী, চর ভূরুঙ্গামারী, বঙ্গ সোনাহাট ও বলদিয়া ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য ১৫-২০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই তাদের একমাত্র ভরসা।
স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, লোকবল স্বল্পতার কারণে স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। লোকবলস্বল্পতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.