ভালুুকায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন

ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের ভালুকায় গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার নিঝুরী গ্রামের এই ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ বছর আগে উপজেলার নিঝুরী গ্রামের আবুল কালাম পাঠানের ছেলে ওমর ফারুক পাঠানের সাথে একই উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের মাওলানা ফয়েজ উদ্দিনের মেয়ে ফাতেমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ফারুক সিঙ্গাপুর যাবে বলে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য ফাতেমার ওপর চাপ দেয়। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাতা ফারুককে তখন যৌতুক হিসেবে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয় শ্বশুর পরিবার। ফারুক বিদেশ থেকে বেশ কয়েকবার দেশে আসে। তখন তাদের সংসারজীবন ভালোই চলছিল। এরই মধ্যে তাদের সংসারে আবিদ হাসান ফুয়াদ (১০) ও ফাহমিদা (২) নামে দু’টি সন্তান জন্ম নেয়।
দুই বছর আগে ফারুক বিদেশ থেকে শূন্য হাতে দেশে চলে আসে এবং আবারো পাঁচ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে প্রায়ই স্ত্রী ফাতেমার ওপর শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। নিরুপায় হয়ে ফাতেমা তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশা জমি বিক্রি করে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা স্বামী ফারুকের হাতে তুলে দেন। এতে স্বামী ফারুকের মন গলেনি। আরো টাকা দিতে হবে বলে স্বামী ফারুক, বোন তাছলিমা, নাছিমা, শাশুড়ি হাবিবা খাতুন ফাতেমাকে প্রায়ই নির্যাতন করতে থাকে।
এরই জেরে ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শ্বশুর পরিবারের লোকজন ফাতেমাকে ব্যাপক মারধর করে। খবর পেয়ে বড় ভাই মাহমুদ হাসান বোন ফাতেমাকে উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে ফারুকের বাবা মা ফাতেমার আর কোনো সমস্যা হবে না বলে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু কয়েক দিন যেতে-না-যেতেই আবারো শুরু হয় টাকার জন্য নির্যাতন। গত ৯ মার্চ বিকেলে ঘরে আটকে রেখে ফাতেমাকে নির্যাতনের খবর পেয়ে ভাই মাহমুদ বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে ভালুকা মডেল থানার এসআই মাসুদ জামালী গত রোববার রাতে ফাতেমাকে উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভালুকা মডেল থানার এসআই মাসুদ জামালী জানান, বাদির স্বামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আপরাপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.