কালীগঞ্জে এলজিইডির সড়ক নির্মাণে বালুর পরিবর্তে মাটি

আলাউদ্দিন আজাদ ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে কয়েকটি সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে। কালীগঞ্জ থানা প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান এ কথা স্বীকার করে বলেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালুর পরিবর্তে সড়কে মাটি ব্যবহার করেছেন। এ ঘটনায় তিনি কালীগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন বলেও জানান। (জিডি নম্বর : ৯০২, তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি।)
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর ইউপি-কালুখালী বাজার সড়ক বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কটিতে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু ইতোমধ্যে প্রায় কোটি টাকার অগ্রিম বিল প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউপির কমলাপুর গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনৈক মিজানুর রহমান, একই গ্রামের কৃষক সুলতান, মানিক মণ্ডল, সিংদহ গ্রামের মনিরুল ইসলামসহ অনেকে। তারা বলেন, রাস্তার আগের ইট তুলে খোয়া করা হয়েছে। এতে নি¤œমানের সামান্য কিছু নতুন ইট ব্যবহার করা হয়েছে। বক্সকাটিংয়ের পরে লোক দেখানো কিছু স্থানে রোলার করা হয়েছে। ৬ ইঞ্চি করে বালু ফিলিং করার কথা থাকলেও মাটি দিয়ে বক্সভর্তি করা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটি সুন্দরপুর ইউপি থেকে কালুখালী বাজার পর্যন্ত হলেও মূলত এটি শুরু হয়েছে সিংদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে প্রবাসী রাশিদুলের বাড়ির সামন থেকে সিংদহ আমতলা বাজার হয়ে কমলাপুর গ্রামের বেলেখাল পর্যন্ত। সড়কটি সংযোগ করা হয়েছে একই ইউনিয়নের সুন্দরপুর-ছালাভরা পাকা সড়কের সাথে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কালীগঞ্জ থানা প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, কাজটির জন্য দুই কোটি ১৭ লাখ টাকায় নির্বাচিত ঠিকাদারের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চুক্তি মোতাবেক পাঁচ স্তরে সড়কটির উন্নয়নকাজ সমাপ্ত করার কথা রয়েছে। স্তরগুলো হলোÑ প্রথম ধাপে বক্সকাটিং, দ্বিতীয় ধাপে বালু ফিলিং, তৃতীয় ধাপে বালু ও ইটের খোয়া মিশিয়ে রোলার, চতুর্থ ধাপে ডব্লিউবিএম (ওয়াটার বন্ড ম্যাকাডাম) এবং শেষ ধাপে কারপেটিংয়ের কাজ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন নিয়োগ করা ঠিকাদার বক্সকাটিং করার পরে বালু ফিলিং করেননি। সড়কে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ৩৪৪০ মিটার (প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার) কাজের মধ্যে ৯০০ মিটার পর্যন্ত বালুর পরিবর্তে শুধু মাটি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বারবার চিঠি দিয়ে ওই ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখাসহ দফায় দফায় সতর্ক করা হলেও ঠিকাদার বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়েই চতুর্থ ধাপের কাজ শেষ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্ব¡াবধায়ক প্রকৌশলী যশোর অঞ্চলকে কয়েক ধাপে চিঠি হয়ে অবহিত করা হয়েছে। এরপরেও নির্বাহী প্রকৌশলী অগ্রিম বিল প্রদানের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী কালীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেন এবং সেই নির্দেশ মতে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম দফায় প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি বিল প্রদান করা হয়েছে।
অপর এক অভিযোগে বলা হয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়ন থেকে বাথুলিয়া বাজার সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ধরা পড়েছে। এক কিলোমিটারের বেশি এ সড়কটিতে নি¤œমানের সামগ্রীসহ বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সড়কটি। কালীগঞ্জ থানা প্রকৌশলীর দফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী দিলিপ কুমার সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি নির্মাণ বাবদ ৬২ লাখ ৬ হাজার টাকায় ঝিনাইদহ শহরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ওই ঠিকাদার অগ্রিম বিল দাবি করেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর আদেশ মোতাবেক মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার বিল প্রদান করা হয়েছে ঠিকাদারকে। সড়কের বক্সকাটিংয়ে বালু দেয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার মাটি দিয়েছেন এমন এক প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন এই উপসহকারী প্রকৌশলী। অগ্রিম বিল প্রদানের পেছনে অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে মর্মে অনুসন্ধানকালে জানা গেছে। তবে সেই অদৃশ্য শক্তির বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। এ দিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দাবি করেছেন, শিডিউল মোতাবেক সড়কগুলোর নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। মাটি দিয়ে কোনো সড়ক করা হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেছেন, স্বচ্ছতার সাথে সড়কগুলোর নির্মাণকাজ তদারকি করা হচ্ছে। বিশেষ কোনো ঠিকাদারের সাথে তার কোনো সখ্যতা নেই।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.