ঢাকা, শুক্রবার,২৭ এপ্রিল ২০১৮

নিত্যদিন

নেনেট্স নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী

১৪ মার্চ ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ তোমরা জানবে নেনেট্স সম্পর্কে। এরা সাধারণত খাটো শারীরিক কাঠামোর। রাশিয়ার নেনেট্স জাতি সামোয়েদিক জাতির একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত। লিখেছেন
মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্
নেনেট্স জনসংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজার ৮৫৭। এদের বেশির ভাগ বাস করে রাশিয়ার ইয়ামালো-নেনেট্স ওকরুগ ও নেনেট্স স্বশাসিত ওকরুগে। প্রায় ২১৭ জন বাস করে ইউক্রেনে।
শিকার ও মাছ ধরা এদের জীবিকা। এরা মাংস খেতে পছন্দ করে। বল্গাহরিণের মাংস এদের প্রধান খাদ্য। কিন্তু গ্রীষ্মকালে মাংসের অভাব দেখা দিলে এরা মাছ ধরে এবং এ সময় মাছই এদের প্রধান খাদ্য। বরফে গর্ত করে নিচ থেকে মাছ ধরতে এরা পটু।
অনেক নেনেট্স এখনো এদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে। এগুলো তৈরি করে নারীরা। নেনেট্স পুরুষ পরে মালিত্সা। এটি তৈরি করতে লাগে প্রায় চারটি বল্গাহরিণের চামড়া। এ পোশাকের ভেতরের অংশে পশম থাকে এবং বাইরে থাকে লেদার। নারীরা পরে ইয়াগুশ্কা, যা তৈরি করতে লাগে প্রায় আটটি বল্গা হরিণের চামড়া। এ পোশাক খুবই শীত-নিবারক।
নেনেট্স জাতি সামোয়েদিক জাতির একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত। এরা কথা বলে নেনেট্স ভাষায়। রুশ ভাষাও জানে। নেনেট্স ভাষার রয়েছে দু’টি উপভাষাÑ তুন্দ্রা ও বন উপভাষা।
নেনেট্সদের কেউ বিশ্বাস করে খ্রিষ্টধর্মে আবার কারো বা বিশ্বাস রয়েছে সামানিবাদে।
নেনেট্সদের বসতবাড়িকে বলে চাম। বল্গাহরিণের চামড়া ও কাঠের খুঁটি ব্যবহার করে এগুলো তৈরি করা হয়। এসব বাড়িতে নারী ও পুরুষের বসবাসের জন্য আলাদা অংশ আছে।
সোভিয়েত যুগে (১৯২২-১৯৯১) নেনেট্স জীবনধারায় বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়। স্থায়ী খামারে বসবাসের জন্য এদের বাধ্য করা হয়। সোভিয়েত যৌথ খামার নীতি এদের সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাষ্ট্রীয় বোর্ডিং স্কুলে নেনেট্স ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হয়। এদের পেশায় বেশ পরিবর্তন আসে। এদের মধ্যে কবি-সাহিত্যিক তৈরি হয়। তবে শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে এখানকার পরিবেশও বেশ দূষিত হয়।
নেনেট্সরা সাধারণত খাটো শারীরিক কাঠামোর। পুরুষের গড় উচ্চতা ১৫৮ সেন্টিমিটার। এরা মোটাসোটা। এদের মুখমণ্ডল প্রশস্ত ও চ্যাপ্টা ধরনের। এদের গায়ের রঙ শ্যাম বা কালো। চুল ও চোখ কালো বা বাদামি বর্ণের।
১৯৭০-এর দশকে নেনেট্স এলাকায় তেল ও গ্যাস আবিষ্কার হয়। এরপর বাইরের জাতিগুলোর সাথে নেনেট্সদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও নেনেট্সদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক বিকাশ ভালো।
তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫