কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

একচল্লিশ.
বাড়ি ফিরে দেখি, মা নেই। বাবা আর আমার জন্য একটা নোট রেখে গেছে। তার এক অসুস্থ বোনকে দেখতে গেছে আটলান্টায়। কবে ফিরবে ঠিক নেই।
বাবার সাংবাদিক বন্ধু আমাদের বসার ঘরের মাঝখানে মজবুত একটা লোহার খাঁচা এনে রেখেছেন। তাতে ভরা হলো রেনকে।
এখনো আমার বিশ্বাস হয় না, ছোটখাটো ওই অসুস্থ মানুষটা মায়ানেকড়ে।
আমার আশঙ্কা, ভীষণ বিপদে পড়তে যাচ্ছে বাবা। পূর্ণিমার সময় রেন মায়ানেকড়েতে রূপান্তরিত না হলে ওকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে বাবা। ও গিয়ে তখন পুলিশকে জানাবে। পুলিশ বাবাকে ধরে নিয়ে গিয়ে হাজতে ভরবে। পাগলাগারদেও পাঠাতে পারে।
আগামীকাল রাতে ত্রয়োদশী। মোটামুটি গোল হয়ে যাবে চাঁদটা। আরো দুই দিন পর পূর্ণিমা। সাপুড়ে বুড়ো বলেছিল, ‘এই তিনটে রাতই খুব খারাপ। মানুষ মায়ানেকড়েতে রূপান্তরিত হয়।’
পরদিন বিকেলে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুসাদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম। জিজ্ঞেস করলাম, কিশোরের কোনো খবর আছে কি না। ও জানাল, কয়েক দিন আগে চিঠি দিয়েছে কিশোর। ওদেরও স্কুল ছুটি। তবে এবার গ্রিনহিলসে আসতে পারবে না। ওর চাচা রাশেদ পাশা ওকে আর মেরি চাচীকে নিয়ে অন্যখানে বেড়াতে যাবেন। হতাশ হলাম। কিশোর থাকলে ভালো হতো। রেনকে নিয়ে কী করব, আলোচনা করতে পারতাম।
মায়ানেকড়েটার কথা মুসাকে জানালাম।
লাফিয়ে উঠল মুসা, ‘চলো, দেখব!’
‘কিন্তু বাবা তো এখনি কাউকে দেখাতে নিষেধ করেছেন।’
‘আমাকে দেখালে কিছু বলবেন না।’
তা অবশ্য ঠিক। ভেবে নিয়ে বললাম, ‘চলো।’ (চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.