বিমান দুর্ঘটনায় ৪৯ জনের প্রাণহানি

নিরাপত্তার জন্য সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন

বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হয়ে মর্মান্তিকভাবে ৪৯ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। ৩৪ বছর পর বাংলাদেশের কোনো বিমান এ ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়ল। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, মানুষের ভুলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে। ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের বিভ্রান্তিকর নির্দেশনার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অপর দিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পাইলটের ভুলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে যে কারণেই ঘটুক না কেন নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি দুর্ঘটনাকবলিত বিমানবন্দর; বিমান ওঠানামার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জটিল বিমানবন্দরগুলোর একটি।
ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার আগমুহূর্তে পাইলটের সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) রুমের সর্বশেষ কথোপকথন প্রকাশ হয়েছে। সেখানে বিমানবন্দরের এটিসি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের পাইলটকে অবতরণের জন্য দুইবার দুই রকম নির্দেশনা দেয়ার প্রমাণ মিলেছে।
অডিও রেকর্ডের শুরুতে শোনা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে ইউএস-বাংলার পাইলটকে বিমানবন্দরের ডান দিকের রানওয়েতে (০২) অবতরণের নির্দেশনা দেয়া হয়। পরে পাইলট বলেন, ঠিক আছে স্যার। নির্দেশনা অনুযায়ী পাইলট উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের ডান দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান কন্ট্রোল রুমে। কিন্তু ডান দিকে রানওয়ে খালি না থাকায় তিনি আবার কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করেন। এ সময় তাকে ভিন্ন বার্তা দেয়া হয়।
পাইলট আগের অবস্থানে (০২) রানওয়ে ফ্রি করার জন্য কন্ট্রোল রুমের কাছে অনুরোধ জানান। কিন্তু তাকে আবারো ভিন্ন বার্তা দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর পাইলট বলেন, স্যার আমি আবারো অনুরোধ করছি রানওয়ে ফ্রি করুন। এর পরপরই উড়োজাহাজটি থেকে বিকট শব্দ পাওয়া যায়। এর কিছু সময় পরে ২টা ১৮ মিনিটে উড়োজাহাজটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পাশের একটি মাঠে আছড়ে পড়ে।
এই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের পর সবচেয়ে বেশি নাগরিক মারা গেছে নেপালের। এর মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া চীন ও মালদ্বীপের একজন করে নাগরিক মারা গেছেন। অকালে এই প্রাণহানিতে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত বেদনাহত। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে সময়ানুবর্তিতার জন্য। আমরা মনে করি, উড়োজাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের জন্য এ দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা প্রয়োজন। নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও আমরা আশা করি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.