জাতীয়করণে পাঁচ বছর সময়ক্ষেপণ

এবার স্কুলগুলো নিয়ে ভাবতে হবে

শিক্ষা দাবি নয় অধিকারÑ এটাই ছিল মূল বক্তব্য। বাস্তবে দেশের চিত্র একেবারে ভিন্ন। শিক্ষা খাত নিয়ে অনেক বক্তব্য শোনানো হয়েছে। অনেক সাফল্যগাথা প্রচার করা হয়েছে। আসলে যা হওয়ার তা কিছুই হয়নি। এর প্রমাণ পাঁচ বছরেও প্রাথমিক স্কুলের জাতীয়করণের কাজ সম্পন্ন হয়নি। একসাথে সারা দেশে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেয় সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানে এক লাখ তিন হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। নানা ধরনের জটিলতায় প্রাথমিকের শিক্ষকেরা তাদের বেতনভাতা পাচ্ছেন না। শিক্ষকেরা জানান, বেতন ছাড়া মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বিষয়টি একাধিকবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষকেরা বলছেন, পাঁচ বছর পার হলেও নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে বিষয়টি নিরসনে জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করেন, আগামী জুন মাসের আগে তৃতীয় ধাপের জাতীয়করণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। শেষ ধাপের কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে।
তথ্যানুযায়ী নিবন্ধিত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে বা এনজিও পরিচালিত স্কুলগুলোকে তিন ধাপে সরকারীকরণ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে এমপিওভুক্ত ২২ হাজার ৯৮১টি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারি আদেশও জারি করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে দুই হাজার ২৫২টি স্কুল জাতীয়করণ করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপের ৯৬০টি স্কুল জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শেষ ধাপের মাঠজরিপকাজ ২০১৪ সালে শেষ হয়েছে। তবে এ নিয়ে ধীরে চলো নীতিতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয় ধাপের স্কুলের গেজেট প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকদের গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। ছয় মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে মাঠপর্যায়ে চিঠি দেয়া হয়। এতে থানা-জেলা ও কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স স্কুল ও শিক্ষক যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন ফের পাঠাতে বলেছে। এ জন্য তৃতীয় ধাপের শিক্ষকদের জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে শিক্ষকদের গেজেট প্রকাশ আবার আটকে গেছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পাঁচ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নানা জটিলতায় দীর্ঘ সময় পরে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় ধাপের স্কুলগুলোর গেজেট প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকদের গেজেট প্রকাশ নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। শিক্ষকেরা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে সারা দেশের ২৬ হাজার নিবন্ধিত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি ও সরকারি অর্থায়নে বা এনজিও পরিচালিত স্কুল জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ঘোষণা বাহবা পায়। বাস্তবে শিক্ষাক্ষেত্রে যে নৈরাজ্য চলছে, তার কারণেই ঘোষণাগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ে, কিন্তু জাতীয়ভাবে তেমন কোনো অগ্রগতি হয় না।
আমরা মনে করি, শিক্ষা খাত নিয়ে আর রাজনীতি নয়, এবার উপসংহার টানা জরুরি। আশা করি, নির্বাচন ও ক্ষমতার রাজনীতির ডামাডোলের ভেতরও ২৬ হাজার প্রাথমিক স্কুলকে আর প্রহর গুনতে হবে না। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত ঘোষণা আসা প্রয়োজন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.