কান্না থামছে না আলিফের বাড়িতে
কান্না থামছে না আলিফের বাড়িতে

কান্না থামছে না আলিফের বাড়িতে

শেখ শামসুদ্দীন দোহা, খুলনা ব্যুরো

কখন ফিরবে আলিফ? জীবিত না লাশ হয়ে? সেদিকে তাকিয়ে আছে আলিফের পরিবার। বিমান দুর্ঘটনার আগে আলিফের প্রতিটি মুহূর্তের স্মতিচারণ ও কান্নায় নিস্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী। টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সবাই। সবার একই কথা, এইতো আলিফ আসছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমান দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকায় অবস্থানরত তার খালু শাহাবুর রহমান মঙ্গলবার সকাল ৮টার ফ্লাইটে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তিনি পৌঁছানোর পরই আলিফের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানতে পারবে স্বজনেরা। বাবা মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান মোল্লা আর মা মনিকা পারভীন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না প্রিয় পুত্রের এই ঘটনা। এ দিকে মঙ্গলবার আলিফের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আসেন খুলনা সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি। এ সময় মেয়র আলিফের বাবা আছাদুজ্জামান মোল্লাসহ পরিবারের শোকাহত সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

দুপুর বারটার দিকে দেখা যায়, রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামের বার পূন্যের মোড় এলাকায় তিনতলা ছিমছাম বাড়িটি ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড়। এর দ্বিতীয় তলায় থাকতেন অবিবাহিত আলিফ। পড়াশোনার পাশাপাশি আলিফ রাজনীতি এবং ঠিকাদারি করতেন। ঘরে ঢুকতেই ছোট চাচা মো. বাবর আলী কেঁদে কেঁদে ভাইপো আলিফের বিভিন্ন স্মৃতির কথা আওড়াচ্ছেন।

বড় ভাই আশিকুর রহমান হামিম বলেন, তিন ভাইয়ের মধ্যে আলিফ ছিল মেঝ। তার নেপালে পৌঁছে মাকে ফোন দেয়ার কথা ছিল। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় যশোর থেকে বিমানে ঢাকায় যাওয়ার পথে মায়ের সঙ্গে মোবাইলে আলিফ জানিয়েছিল,‘নেপালে পৌঁছেই মা আমি তোমাকে ফোন দেব। কিন্তু সে আর ফোন দিতে পারেনি’।
তিনি বলেন, আলিফ স্থানীয় বেলফুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং খুলনার আহসান উল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়। এরপর ২০০৭ সালে কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে যায়। সেখান থেকে ২০১০ সালে ফিরে পুনরায় খুলনা সিটি কলেজে ভর্তি হয়ে ডিগ্রি পাস করে। সর্বশেষ খুলনার বিএল কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এখনো কয়েকটি পরীক্ষা বাকি আছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত আরিফের বন্ধু ফারুক দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের শুধু বলছে- ধৈর্য্য ধর, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। তবে তিনি হাসপাতালে আহতদের মধ্যে আলিফকে দেখেননি বলেও জানান।

আলিফের খালাতো বোন রাহিমা আক্তার শান্ত বলেন, বিমান দুর্ঘটনার সংবাদ শোনার পর থেকে আলিফের অসুস্থ বাবা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মা-ও নির্বাক হয়ে গেছেন।

আলিফের ঘনিষ্ট বন্ধু আইনুল জানান, আলিফ ছিল ভ্রমণপিপাসু, প্রায়ই সে ভারত যেত। এবারই তার প্রথম নেপাল সফর। এজন্য সে খুব খুশি ছিল। সদা হাস্যজ্জল, মিষ্টভাষী, পরোপকারী, সুন্দর চেহারার অধিকারী আলিফের এভাবে চলে যাওয়া তাদেরকে ব্যথিত করেছে।

আলিফের ভিজিটিং কার্ডে দেখা যায়, তিনি বঙ্গবন্ধু ছাত্র যুব প্রজন্মলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড খুলনা জেলার তথ্য ও প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.