ফিলিং না রুট ক্যানেল : কোনটি দরকার?
ফিলিং না রুট ক্যানেল : কোনটি দরকার?

ফিলিং না রুট ক্যানেল : কোনটি দরকার আপনার?

ডা. নাহিদ ফারজানা

ডাক্তার সাহেবের দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা, নাওয়া-খাওয়া আজ তিন দিন ধরে বন্ধ হয়ে গেছে, একটু ফিলিং করে দেন তো।

আমাদের দেশে বেশির ভাগ রোগীর মুখেই এই কথাটি শোনা যায়। তবে এ কথাটির মধ্যে যে ভুলটি রয়েছে, তা হলো দাঁতের সঠিক চিকিৎসা সম্বন্ধে রোগীর ভুল ধারণা। আর ধারণাটি হলো দাঁতটিতে ফিলিং করা হবে নাকি রুট ক্যানেল করা হবে।
দাঁতে তিনটি স্তর থাকে। প্রথম স্তর এনামেল, দ্বিতীয় স্তর ডেন্টিন ও সর্বশেষ এবং মাঝের স্তরের নাম পাল্প বা দন্তমজ্জা। যখন দাঁতে ক্যারিজ বা দন্তক্ষয় হতে শুরু করে তখন প্রথমে তা এনামেল দিয়ে শুরু করে নিচের দিকে বিস্তার লাভ করে। এই দন্তক্ষয় যখন ডেন্টিন পর্যন্ত পৌঁছায় তখন দাঁতে ফিলিং দিয়ে দাঁতটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

এ ক্ষেত্রেও কথা আছে যদি দেখা যায় দাঁতটি বেশি sensative-এর প্রায় দন্তমজ্জার কাছাকাছি তখন দাঁতে ফিলিংয়ের নিচে subbase হিসেবে এ রকম material দেয়া হয় যাতে ঠাণ্ডা, গরম ও অন্যান্য খাবারের অনুভূতি বেশি না হয় এবং Secondary Dentine Form করে দন্তমজ্জা রক্ষা করে। তারপর Permanant Filling দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু যদি দেখা যায় দাঁতের সংক্রমণ ডেন্টিনকে ছাড়িয়ে Pulp বা দন্তমজ্জাকে ছুঁয়ে গেছে সে ক্ষেত্রে আর Filling করা চলবে না। যদি কেউ ভুল করে কোনো ফিলিং দেয়, তবে সেখানে ব্যথা আরো বেশি হবে দাঁতের মধ্যকার পচন বস্তুগুলো বাইরে বের হতে না পেরে দাঁতের গোড়ায় গিয়ে জমা হবে এবং তা ফুলে যেতে পারে এবং Sincus দিয়ে তার পুঁজ বের হয়ে আসবে। তখন রোগীর সংশ্লিষ্ট দাঁতে রুটক্যানেল করতে হবে। রুটক্যানেলই হচ্ছে ওই দাঁতের উপযুক্ত চিকিৎসা। এ ক্ষেত্রে রুটক্যানেলের আগে ওই দাঁতের একটা এক্স-রে করে দাঁতের অবস্থা ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে।

প্রিয় পাঠক এবারে বুঝলেন তো রুটক্যানেল এবং ফিলিংয়ের পার্থক্য। রোগী তো আর জানেন না তার দাঁতের উপযুক্ত চিকিৎসা কোনটি তাই এটি আমরা যারা ডেন্টাল সার্জন আছি, তারাই বুঝব রোগীর দাঁতের কাজ কী হবে। তবে বর্তমানে অনেক কোয়াক আছে যারা নিজেকে ডাক্তার বলে দাবি করে, তাদের কাছে না গিয়ে একজন ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিয়ে আপনার দাঁতের সুচিকিৎসা করান। সময় থাকতে দাঁতকে বাঁচান- দাঁতের মর্যাদা দিন।

লেখক : ডাইরেক্টর ও ডেন্টাল সার্জন, নাহিদ ডেন্টাল কেয়ার, ১১৭/১, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১২-২৮৫৩৭২

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.