নিহত সবুজ
নিহত সবুজ
ঈশ্বরগঞ্জে সবুজ হত্যা

আট বছরের মৃদুলের কাছে ফিরেছেন বাবা, তবে কঙ্কাল হয়ে

মো: আব্দুল আউয়াল, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ বাবাকে ফিরে পেতে আশপাশের বাজারসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে মায়ের মুঠোফোন দিয়ে বাবাকে খোঁজছিল আট বছরের রায়হান হাসান মৃদুল। কোথাও খোঁজ মিলছিল না বাবা সুবুজ মিয়ার। নিখোঁজের খবর পেয়ে প্রতিবেশিরা সবুজের বাড়িতে গেলে তাদের জড়িয়ে ধরে মৃদুলের একটাই আকুতি ছিল আমার নিখোঁজ বাবাকে ফিরিয়ে দিন।

ছয় মাস পর বাবা ফিরে এসেছে কঙ্কাল হয়ে। ঘাতকের হাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে বেওয়ারিশ হিসেবে ময়মনসিংহের ভাটিকাশরে আঞ্জুমানে মফিদুলের দাফন করে দেওয়া সবুজের লাশ আজ মঙ্গলবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতের নির্দেশে আজ ঈশ্বরগঞ্জের নাউরী গ্রামে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জের মগটুলা ইউনিয়নের নাওরী গ্রামের নুরুল আমীন ভূঁইয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৩৮)। মধুপুর গ্রামের নূর উদ্দিন ফকিরের মেয়ে লাভলী আক্তার সবুজের কাছ থেকে দাদনে টাকা নেয়। প্রায় ১৩ লাখ টাকা গত ২১ সেপ্টেম্বর সবুজ মিয়াকে ফেরত দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু টাকার চাপে দিশেহারা লাভলী টাকা আনতে যাওয়া সবুজ মিয়াকে হত্যার করে লাশ সুটকেটে ভরে গুমের চেষ্টা করে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বের ফুলবাড়িয়া উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বড়ই আটা এলাকায় ফুলবাড়িয়া-ময়মনসিংহ সড়কের পাশের একটি ঝোপ থেকে সুটকেস ভর্তি লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। সুটকেস ভর্তি লাশটির মুখ ঝলসানো ও হাত-পা বাঁধা ছিল।

পুলিশ নিহতের ছবি ও বিভিন্ন আলমত সংগ্রহ শেষে পরিবারের পরিচয় না পাওয়ায় ময়মনসিংহের ভাটিকাশরে দাতব্য সংস্থা আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করে দেয়।

এদিকে নিহত ব্যক্তির পরিধেয় কাপড় ও ছবি দেয়ে লাশটি শনাক্ত করে পরিবারের লোকজন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মোনায়েম ভুঁইয়া বাদি হয়ে থানায় একটি অপহরণ মামলা করলে পুলিশ ২৭ সেপ্টেম্বর লাভলী আক্তারকে গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। লাভলী টাকা চাপে সবুজ মিয়াকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। হত্যাকা-ে অংশ নেয় চারজন। ইতোমধ্যে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হলে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে হত্যাকা-ের শিকার সবুজ মিয়ার লাশ আদালতের নির্দেশে আজ মঙ্গলবার নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। সবুজ হত্যার প্রায় ছয় মাস পর আজ তার লাশ নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী কাল বুধবার পারিবারিক গোরস্থানে লাশ দাফন করা হবে।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়মনসিংহ ডিবির এসআই মো: ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, লাভলী দাদনে নেয়া টাকার চাপে সবুজ মিয়াকে হত্যা করে। আদালতের নির্দেশে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.