ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত বিমান
ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত বিমান

শেষ মুহূর্তে পাইলটের সাথে ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথোপকথন (অডিও)

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইউএস বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলটের সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যে কথোপকথন হয় তার রেকর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।

এ কথোপকথন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এটিসির ভুল নির্দেশনায় পাইলট বিভ্রান্ত হয়েছেন। কথোপকথনে প্রথমে ট্রাফিক কন্ট্রোল ইউএস বাংলাকে বলছে রানওয়ে ২০ বরাবর অ্যাপ্রোচ না করতে। (রানওয়ের এক পাশের নম্বর ২০, অন্যপাশের ০২) কারণ ট্রাফিক আছে ওই পাশে, ২৭০ ডিগ্রির মতো টার্ন নিতে বলেছে।

পাইলট তখন বলেছেন, ওকে। এর কিছুণ পরে ট্রাফিক কন্ট্রোল বলেছে ইউএস বাংলাকে রানওয়ে ২০ কিয়ার, এখন অ্যাপ্রোচ করতে পারো ২০ বরাবর। তখনো পাইলটের কাছে রানওয়ে ভিজিবল না। এর একটু পরে ট্রাফিক কন্ট্রোলের আরেকজন (গলা শুনে বোঝা গেছে যে প্রথমে কথা বলেছে সে না) জিজ্ঞেস করে ইউএস বাংলাকে, রানওয়ে কি দেখা যাচ্ছে? পাইলট প্রথমে না বললেও কয়েক সেকেন্ড পরেই বলে হ্যাঁ রানওয়ে দেখা যাচ্ছে এবং পাইলটের পাশ থেকে ০২ প্রান্তটা দেখা যাচ্ছিল।

কারণ শুরুতে ২০-এর দিকে অ্যাপ্রোচ না করতে বলার কারণে কিন্তু অন্য পাশে আগেই ঘুরে গিয়েছিল ইউএস বাংলা। ০২ নজরে পড়ে পাইলটের এবং তিনি বলেন , ০২ বরাবর তিনি ল্যান্ড করতে যাচ্ছেন। তখন ট্রাফিক কন্ট্রোল বলে, ঠিক আছে করো ০২ বরাবর ল্যান্ড। এর একটু পরেই প্রথমে ট্রাফিক কন্ট্রোলের যে কথা বলেছিল সে আরেকটা প্লেনকে বলে যে, ইউএস বাংলা ২০ বরাবর ল্যান্ড করছে। কারণ শুরুতে ইউ এস বাংলাকে সে ওই বরাবর কিয়ার করে দিয়েছে।

অন্য ট্রাফিক কন্ট্রোলার যে নিজের মতো করে আন্দাজে ০২ বরাবর ল্যান্ড করতে বলেছে ইউএস বাংলাকে তা সে শোনেনি। এই ০২ বরাবর ল্যান্ড করতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ইউএস বাংলা। অরতি ০২ বরাবর ল্যান্ড করতে যাবে এমন অবস্থায় সম্ভবত প্রথম ট্রাফিক কন্ট্রোলারের নজরে জিনিসটা আসে এবং তাকে পরে বলতে শোনা যায়, ইউএস বাংলা ডানে টার্ন করো। কিন্তু ততণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

শুনুন সেই কথোপকথন -

 

বিধ্বস্তের আগে ভুল নির্দেশনা পেয়েছিল বিমানটি

কেন বিধ্বস্ত হলো বিমানটি এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পাইলটকে দায়ী করলেও এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ দায়ী করছে বিমানবন্দরকে।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানতে অনুসন্ধান চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে এ নিয়ে নানা বক্তব্য।

আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রি বলেছেন, বিমানটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের নির্দেশনা না মেনে ভুল দিকে অবতরণ করেছে।

এদিকে, ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আলজাজিরাকে বলেছেন, তাদের পাইলটের কোনো দোষ নেই। বরং নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ভুল নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো।

হিন্দুস্থান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতম বলেছেন, দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণ করার কথা থাকলেও বিমানটি অবতরণ করেছে উত্তর দিক থেকে।

এদিকে, সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এক প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, প্রথমে মনে হয়েছিলো মেঘের কারণে বিমানটি বিমানবন্দরের দক্ষিণ দিক দিয়ে খুব নিচু হয়ে নামছিলো। কিন্তু পরক্ষণেই বিমানটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে এবং বিধ্বস্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক অনেক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটির অবতরণ স্বাভাবিক ছিলো না।

দ্য হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, এরই মধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাদ শর্মা এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ৭১ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ৫০ জন নিহত হয়। তবে নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, নিহতের সংখ্যা ৪৯। এদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি তা জানা যায়নি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.