সন্তান যখন কৈশোরে
সন্তান যখন কৈশোরে

কিশোর সন্তানকে সামলাবেন কিভাবে?

নিপা আহমেদ

ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে। সব কিছুতেই একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব। খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম, পড়াশোনায় মন নেই, সারাক্ষণ বন্ধুদের নিয়ে হইচই করছে। এমন অভিযোগ অনেক টিনএজ বয়সী সন্তানের মায়েরাই করে থাকেন। অনেকেই মনে করেন, টিনএজ বয়সটা তো বাঁধন ছাড়া উল্লাসে মেতে থাকার বয়স। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘুরে বেড়ানো, পার্টি করা, এ সবই যেন জীবনের মূল মন্ত্র। সব মিলিয়ে একরাশ দুশ্চিন্তা, বাবা-মায়ের মন সবসময় আতঙ্কে ভোগে। তবে এর মানে এই নয়, নিয়মের ব্যতিক্রম হলেই মনে করবেন সন্তান অবাধ্য হয়ে গেছে কিংবা খারাপ পথে গেছে। এই বয়সী সন্তানেরা খুব আবেগপ্রবণ হয়। তাই ওদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয় ধৈর্যের সাথে। সন্তানদের নিয়ে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করা স্বাভাবিক। তবে তার পরিপ্রেক্ষিতে যদি শাস্তি বা বকুনি দেয়া হয়, তাহলে সন্তানদের মধ্যেও বিদ্রোহ করার মনোভাব দেখা দিতে পারে। মনে রাখবেন, আপনার সন্তান ছোট হলেও ওর নিজস্ব একটা জগত আছে। নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ, স্বপ্ন আছে। জোর করে নিজের ভাবনা-চিন্তা সন্তানের ওপর চাপিয়ে দিতে যাবেন না। নিজেদের পারিবারিক প্রেক্ষাপট, লাইফ স্টাইল এবং সন্তানদের মানসিকতা অনুযায়ী এমন উপায় বেছে নিন, যাতে সব রকমের সঙ্ঘাত এড়িয়ে ওদের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সুন্দর ও সুশৃংখলভাবে।

কী করবেন : ছোটবেলা থেকে সন্তানের মধ্যে পড়াশোনা, খাওয়া দাওয়া, বাড়ি ফেরা- সব বিষয়ে বা কাজে নিয়মানুবর্তিতা তৈরি করতে সাহায্য করুন। নিয়মের আওতায় আপনাদেরও থাকতে হবে। তাহলে সন্তানদের মধ্যেও ভালো অভ্যাস গড়ে উঠবে। ছোট থেকেই পরিবারের মূল্যবোধ ওকে শেখাতে হবে। আপনারা কী বিশ্বাস করেন এবং কেন করেন, তা সন্তানকে বোঝান। এতে ভবিষ্যতে ওর পক্ষে ঠিক ভুল চেনা অনেক সহজ হয়ে যাবে। সন্তানকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারেন। ঠিক-ভুল বুঝাতে পারেন। ছোট থেকেই ভুল স্বীকার করতে শেখান, মিথ্যা বলার প্রবণতা তৈরি হবে না। এ বয়সে আত্মমর্যাদা প্রখর থাকে। তাই অন্য কারো উপস্থিতিতে কড়া কথা অথবা বকাঝকা না করাই ভালো।

পড়াশোনা নিয়ে সারাক্ষণ নজরদারি করবেন না। তাহলে সন্তানের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যাবে। পড়াশোনা নিয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে ওর মনে বিতৃষ্ণা তৈরি হতে পারে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সামনে সন্তানের পড়শোনা নিয়ে আলোচনা করবেন না বা কটাক্ষ করে কোনো মন্তব্যও করবেন না। সন্তানের ওপর প্রত্যাশার ভার চাপাতে যাবেন না। ওকে নিজের মতো করে পড়াশোনা করতে দিন। তবে অবশ্যই পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাবেন। খাওয়ার বিষয়েও সবসময় বাধা নিষেধ করা ঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিন। মাঝে মধ্যে নিয়ম ভাঙতে চাইলে আপত্তি করবেন না।

এই বয়সে বাবা-মায়ের চেয়ে বন্ধুরা বেশি কাছের হয়ে ওঠে। তাদের কথা, পরামর্শ অনেক বেশি আকর্ষণ করে। তাই বন্ধুবান্ধব নিয়ে একটু সচেতন থাকতে হবে। সন্তানের বন্ধুদের সাথে আলাপ করুন, ফোন নাম্বার, বাড়ির ঠিকানা নিজের কাছে রাখুন। যেকোনো বিষয়ে সন্তানের সাথে আলোচনার পথ খোলা রাখুন। যেকোনো বিষয়ে সরাসরি নিষেধ না করে বরং কেন নিষেধ করছেন সে বিষয়টা বুঝিয়ে বলুন। সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করুন। যেন বাবা-মায়ের ওপর তাদের আস্থা তৈরি হয়। শাসন করবেন তবে সেই সাথে ভালোবাসার প্রকাশ যেন থাকে সেদিকে লক্ষ রাখবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.